বিজ্ঞান সচিব
সুনির্দিষ্ট গবেষণার জন্য ফান্ডের অভাব নেই

সংগৃহীত ছবি
সুনির্দিষ্ট খাত নির্ধারণ করে গবেষণা করার জন্য গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘যেসব প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব রয়েছে এবং যে গবেষণা প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আনা সম্ভব, শুধু সেই ধরনের প্রজেক্ট নির্ধারণ করে গবেষণা করতে হবে। এই ধরনের কার্যকর প্রকল্পের জন্য যে পরিমাণ ফান্ডের প্রয়োজন হবে, তা সরকার সরবরাহ করতে প্রস্তুত।’
আজ সোমবার ঢাকার নভোথিয়েটারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেছেন তিনি। ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) প্রকল্পে অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকদের গবেষণা কার্যক্রম অবহিতকরণ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
বক্তৃতায় ভিয়েতনামের উদাহরণ টেনে বিজ্ঞান সচিব বলছিলেন, ‘আশির বা নব্বইয়ের দশকে ভিয়েতনাম আমাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু প্রযুক্তি ও গবেষণায় বিশেষ জোর দেওয়ার কারণে তারা আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’
তার ভাষ্য, ‘দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের কোনো বিকল্প নেই। যেসব খাতে আমাদের তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে, সেগুলোকে গবেষণার মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফল কীভাবে জনকল্যাণে ব্যবহার করে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়, তা গবেষকদের সবসময় মাথায় রাখতে হবে।’
নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। সেমিনারে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান।
অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকদের মধ্যে বক্তব্য দেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল বাসেত। আর ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের পক্ষে বক্তব্য দেন অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্সের রিসার্চ পলিসি ডিপার্টমেন্টের মাহমুদা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে নিজেদের গবেষণা পেপার উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট ড. রোকেয়া বেগম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক মো. ইলিয়াস এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের গবেষক টুম্পা সাহা। উপস্থাপন শেষে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে গবেষকরা উপস্থিত শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই আয়োজনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠন ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য অনুদান প্রদান করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে এই প্রকল্পগুলো নির্বাচন করা হয় এবং প্রকল্পপ্রাপ্ত একজন পরিচালককে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচির আওতায় মূলত চারটি গ্রুপে (জীববিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা ও পুষ্টিবিদ্যা; অ্যাপ্লাইড সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং; ফিজিক্যাল সায়েন্স এবং এগ্রিকালচার ও এনভায়রনমেন্ট) এই অনুদান দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৪৬টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ কোটি ৯৭ লাখ টাকার গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।




