রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে দলনিরপেক্ষ থাকব: রাষ্ট্রপতি

সংগৃহীত ছবি
দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালন ও রাষ্ট্রের কল্যাণে তিনি সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন।
আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত প্রথম দরবারে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে এই দরবার অনুষ্ঠিত হয়।
দরবারে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা, সম্মান ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে আন্তরিকতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বললেন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সকলকে জনআস্থা অর্জনে কাজ করে যেতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি আমার (দলীয়) সব পদ ও সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছি। এখন আমি সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। আমি শপথ নিয়েছি, আমার কোনো রাগ, বিরাগ, অনুরাগ থাকবে না। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি সবকিছুতে রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকব বলে শপথ নিয়েছি। আমার সামনে একটাই মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য- আমার দেশ, আমার রাষ্ট্র ও আমার জনগণ’।
রাষ্ট্রপতি আরও যোগ করেন, এই বঙ্গভবন রাষ্ট্রের প্রতীক, সার্বভৌমত্বের প্রতীক। রাষ্ট্রের সম্মান ও মর্যাদা এখান থেকেই পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রের স্বার্থেই এই মর্যাদাকে আমাদের সমুন্নত রাখতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে কর্মরত সকলের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করা।’ এ সময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দেশ ও জাতির জন্য আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি এ সময় অতীতে বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনকারী সকল রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত সব বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে, যাতে কোনোভাবেই জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।
তার ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কর্মজীবন এবং পারিবারিক জীবনের মধ্যে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদেরও পর্যাপ্ত সময় দেওয়াও অত্যন্ত প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য কর্মসূচি সুষ্ঠু ও মর্যাদাপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জন বিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলমসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী দরবারে উপস্থিত ছিলেন।








