‘পলায়নের’ দুই বছর পর বরখাস্ত হলেন হারুন-অর-রশীদ
- একই অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন শ্যামল কুমার মুখার্জীও

ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পেরিয়ে গেছে দুই বছরেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময় ধরে আড়ালেই আছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ। এতদিন পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বরখাস্ত হলেন তিনি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নেওয়া হয়েছে এ সিদ্ধান্ত। আজ জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি তার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছেন।
অপরদিকে আলোচিত পুলিশ কর্মকতা হারুন ছাড়াও একই অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী। তিনি ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হারুন-অর-রশীদ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে কর্মস্থলে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। একই সঙ্গে দেওয়া হয় কারণ দর্শানোর নোটিস। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি । পরে ২২ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ আগস্ট দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়।
এরপর দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হলেও জবাব দেননি হারুন-অর-রশীদ। ফলে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পরামর্শ চাওয়া হলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মত আসে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেন।
অন্যদিকে, শ্যামল কুমার মুখার্জীও সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয় তাকে। তিনি আগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ছিলেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তাকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ২২ জানুয়ারি তিনি সেখানে যোগ দেন। তবে একই দিন বিকালে তিন সপ্তাহের বিশ্রাম চেয়ে ছুটিসংক্রান্ত প্রস্থান প্রতিবেদন জমা দেন। ৯ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ফেরেননি। পরে তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত। এরপর গত ১৫ মার্চ তাকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। তিনি এই নোটিসেরও জবাব দেননি। এই প্রেক্ষাপটে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। ২৮ জুলাই এ বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল পিএসসির কাছে। ২৯ সেপ্টেম্বর কমিশন তাকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। পরে রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপন দুটিতে সই করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, যা অবিলম্বে কার্যকর করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।




