এসপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া দুই ‘বিতর্কিত’ কর্মকর্তার পদায়ন বাতিল

মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সংগৃহীত ছবি
সমালোচনার মুখে ফেনী ও পঞ্চগড় জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বিতর্কিত দুই কর্মকর্তার আদেশ বাতিল করা হয়েছে। পরে তাদের সংযুক্ত করা হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে।
আজ রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা।
৫ মে ১২ জেলায় নতুন এসপি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এর মধ্যে ফেনী জেলায় মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ে পদায়িত হন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তাদের নাম প্রকাশ্যে আসার পরপরই শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাতিল করা হয় পদায়ন।
‘গুরুতর অভিযোগ থাকা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পদায়ন নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। তারা কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় জেলার এসপি হিসেবে পদায়িত হয়েছিলেন, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা করছে’— জানালেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা।
পঞ্চগড়ে এসপি হিসেবে পদায়ন পাওয়া মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে ‘অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণ আচরণের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন নম্বর-৭৬০ অনুযায়ী তাকে এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন এখনো রয়েছে সরকারি ওয়েবসাইটে।
এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত একজন কর্মকর্তাকে কোন বিবেচনায় জেলার প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো। পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সদস্যর অভিযোগ— মিজানুর রহমানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। সহকর্মীদের কাছে ‘জুয়ারি মিজান’ কিংবা ‘বিকাশ মিজান’ নামেও পরিচিত তিনি।
ফেনীতে পদায়ন পাওয়া মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ঘিরেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে— চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকাকালে তিনি গুম, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে গুম কমিশনেও।
বিশেষ করে ২০১৭ সালে শিবগঞ্জ থানায় পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবদল নেতা মিজানের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার নাম ১০ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করেন মাহবুব আলম।
এদিকে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের তালিকা নিয়ে থামছেই না সমালোচনা। তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তত ১১ জন অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদক পেয়েছিলেন। এদের মধ্যে এক কর্মকর্তা গত সরকারের সময় দুবার পদক লাভ করেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাধ্য হয় পুলিশ সপ্তাহ শুরুর আগের রাতে (শনিবার) পদক তালিকা স্থগিত করতে। আরও যাচাই-বাছাই করে পরে পদক তালিকা নতুন করে নির্ধারণ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের পুলিশ পদক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত আইজিপি রফিকুল ইসলাম। চলতি বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০৯ কর্মকর্তা ও সদস্যকে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।
‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’ বা আইজিপি ব্যাজের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ৩৪১ সদস্য। এটি পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত। ৩৪১ সদস্যকে ব্যাজ দেওয়ার কথা ছিল পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের।
পদক দেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও কী কারণে এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানালেন, ‘পদক প্রদানের বিষয়টি পিছিয়ে গেছে। কবে নাগাদ হবে, সেটিও চূড়ান্ত করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে দেওয়া হবে এ পদক।’
তবে তালিকায় থাকা পদকপ্রাপ্তদের নাম অপরিবর্তিত থাকবে, নাকি পরিবর্তন হতে পারে— এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।’




