এমন যদি হতো

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
খোলা মাঠের মৃত্যুর ফাঁদ বজ্রপাত। ঘুঘুর ফাঁদ মাটিতে, কৃষকের মাথার ওপরে। শনিবার যেন শনি হয়ে ভর করল বজ্রপাতে। প্রাণপাত ৯ জনের। এমন যদি হতো প্রাণহারাদের সঙ্গে থাকত লাইটনিং ডিটেকটর, হয়তো বেঁচে যেতেন তারা।
দুজন কৃষক কাজ করছিলেন মাঠে, এমন না হলে বুক ভরে নিতে পারতেন নিজের ফলানো ফসলের ঘ্রাণ। মাঠে কাজ করা বাবার জন্য খাবার দিতে গিয়ে লাশ হয়ে গেল যে কিশোর, তার স্বপ্নগুলো ছুঁতে পারত আকাশ। ফুটবল মাঠে যিনি খেলায় ছিলেন মগ্ন, তখনই তার দেহ নিথর করে দিল বজ্রপাত; তিনি হয়তো উপভোগ করতে পারতেন আসন্ন বিশ্বকাপ। প্রিয় দলের, প্রিয় তারকার নাম ধরে মাততেন উল্লাসে। নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন। ছোট্ট ওই যন্ত্র হাতে থাকলে, পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারতেন আরও মধুর সময়। অথচ লাইটনিং ডিটেক্টর আমাদের দেশে সহজলভ্য নয় এখনো। এর অভাবে অকালে ঝরে যাচ্ছে কত জীবন!
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম রাইমস’-এর তথ্য বলছে, বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রতিবছর গড়ে প্রাণ যায় ৩০০ জনের। অথচ প্রযুক্তি বিপ্লবের এ সময়ে এমন প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব অনেকটাই। উন্নত বিশ্বে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে লাইটনিং ডিটেকটরকে নিত্যসঙ্গী করেছেন অনেকে। সহজে বহনযোগ্য ওই যন্ত্রের রয়েছে ছোট অ্যান্টেনা, যার মাধ্যমে বজ্রপাতের ফলে উৎপন্ন উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িচ্চুম্বকীয় স্পন্দন শনাক্তে সক্ষম। বজ্রপাতের অবস্থান ৪০ থেকে ৭৫ মাইল দূর থেকেই সহজে শনাক্তের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে দিতে পারে আগাম সতর্কবার্তা। যার ফলে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজার সময় ও সুযোগ পেয়ে যান ব্যবহারকারী। এ ধরনের যন্ত্রের দাম মানভেদে ৫০ থেকে ৫০০ ডলার।
চীনের দুঃখ হোয়াংহো নদী, এটা জানে সবাই। কিন্তু বজ্রপাত যে বাংলাদেশের কৃষকের দুঃখ, জানে কি কেউ?


