বজ্রপাতে এক দিনে পুড়ল ৯ প্রাণ
- আহত ১২

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিনই বাড়ছে বজ্রপাতের ঘটনা। শনিবার সুনামগঞ্জ, রংপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯ জনের। এ ছাড়া পাওয়া গেছে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, জেলার চার উপজেলায় এক দিনেই মারা গেছেন ৫ জন। শনিবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাত হলে ঘটে এ ঘটনা।
এরমধ্যে ধর্মপাশায় বজ্রপাতে মারা গেছেন হাবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩)। হাবিবুর উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে। তিনি বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে হাঁসের খামারের সামনে বজ্রপাতে মারা যান আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮)। তিনি ওই এলাকার গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে। তিনি জামলাবাজ গ্রামের একটি খামারে কাজ করতেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নূর মোহাম্মদ (২৪) নামের একজন।
পাগনার হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন নুরুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় জামালগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ঘটে সদর ইউনিয়নের চানপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামে।
এ ছাড়া লিটন মিয়া নামের একজন মারা গেছেন দিরাই উপজেলায়। তিনি চরনাচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামে ধান কাটছিলেন হাওরে। এমন সময় শিকার হন বজ্রপাতের।
রংপুর ব্যুরো জানাচ্ছে, মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকার সখিপুরে বজ্রপাতে মারা গেছেন দুইজন। তারা হলেন ওই এলাকার তালেব উদ্দিন (৬০) এবং মিলন মিয়া (৪০)।
স্থানীয়রা বলছেন, সকালে একটি পুকুরে মাছ ধরছিলেন জেলেরা। সেই দৃশ্য দেখতে পুকুরপাড়ে ভিড় করেন অনেকেই। এ সময় হঠাৎ শুরু হয় বৃষ্টি। বিকট শব্দে ঘটে বজ্রপাত। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামানের ভাষ্য, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জন মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা গেছেন আলতু মিয়া (৬৫)। তিনি একই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
দুপুরে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামসংলগ্ন মেষির হাওরে ঘটে এ দুর্ঘটনা।
থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, দুপুর ১টার দিকে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান আলতু মিয়া। আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হয়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা হাওরে গেলে আলতু মিয়াকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং বাড়িতে নিয়ে যান।
আটপাড়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জোবায়দুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে।
‘আলতু মিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আর্থিক সহযোগিতা করা হবে তাদের’, বলছিলেন আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহানুর রহমান।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, করিমগঞ্জে বজ্রপাতে মারা গেছেন হলুদ মিয়া (৩৭) নামের একজন। তিনি নুরুল ইসলামের ছেলে। উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের উত্তর কলাবাগ গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটছিলেন হলুদ মিয়া। বজ্রপাত হয় এমন সময়। গুরুতর আহত হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয়।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির নিশ্চিত করেন মৃত্যুর বিষয়টি। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেও বলেও জানান।

