গরুর ধাক্কায় শিশুকে বাঁচানোর ভাইরাল ভিডিওর পেছনের সত্যতা কি?

ছবি: আগামীর সময়
রেললাইনের ধারে এক ছোট্ট শিশু, এক মুহূর্তের অসতর্কতা, আর দ্রুতগতির ট্রেনের গর্জন—সব মিলিয়ে দৃশ্যটি যেন নিশ্চিত বিপদের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটল এক অস্বাভাবিক দৃশ্য, যা প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে “অলৌকিক ঘটনা” হিসেবে। তবে অনুসন্ধানে উঠে আসে ভিন্ন এক বাস্তবতা, যা পুরো গল্পের ধারণাই পাল্টে দেয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়- রেললাইনের পাশে এক শিশু দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ পেছন থেকে সাইরেন বাজিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসে একটি ট্রেন।
পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চারপাশে কেউ নেই শিশুটিকে সতর্ক করার মতো। ঠিক তখনই ভিডিওতে দেখা যায়, হঠাৎ একটি গরু দৌড়ে এসে শিশুটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়-যেন এক মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা থেকে তাকে রক্ষা করে।
ভিডিওটি প্রথম ছড়িয়ে পড়ে ‘দৈনিক খোলাচোখ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১৬ এপ্রিল। ক্যাপশনে দাবি করা হয়, “নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে শিশুটিকে বাঁচালো একটি গরু।” পরবর্তীতে ‘নিউজ টেন’, ‘দৈনিক ইনকিলাব’, এটিএন নিউজসহ একাধিক ফেসবুক পেজ থেকেও একই ভিডিও ভিন্ন ভিন্ন উপস্থাপনায় প্রচার করা হয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। অনেকেই এটিকে বাস্তব ঘটনা ভেবে আবেগপ্রবণ মন্তব্য করেন। কেউ একে আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দেন, কেউ আবার একে ঈশ্বরীয় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন।
তবে একই সঙ্গে কিছু ব্যবহারকারী ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 'আগামীর সময়' দৃশ্যটি বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে-ট্রেনের গঠন অস্বাভাবিক, গরুর অবস্থান ও আচরণ বাস্তবের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ, এবং পুরো ঘটনার সময় শিশুটির প্রতিক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত।
'আগামীর সময়' এর যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটির মূল উৎস ১৫ এপ্রিল ভারতের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, যা নিয়মিত এআই-নির্মিত কনটেন্ট প্রকাশ করে। অ্যাকাউন্টটির বায়োতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কনটেন্টগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।
আরও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে ডিপফেক শনাক্তকরণ টুলে ভিডিওটি পরীক্ষা করলে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯৯.৫ শতাংশ।
এছাড়া ভারতের তথ্য যাচাইকারী সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) তাদের প্রতিবেদনে ভিডিওটিকে সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত বলে উল্লেখ করেছে এবং এতে থাকা অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছে।
সুতরাং, যে ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল আবেগ, বিস্ময় আর বিশ্বাসের ঢেউ- তা আসলে বাস্তব কোনো ঘটনা নয়। এটি প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এক কৃত্রিম দৃশ্য, যা মুহূর্তেই সত্যের মতো করে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের অনুভূতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।




