গান আবৃত্তি ও পাঠ আলোচনায় ‘এক রূপে বহুরূপী’

ছবি: আগামীর সময়
ভাবনগর ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘এক রূপে বহুরূপী’ শিরোনামে চর্যাগান, পাপেট শো, আবৃত্তি এবং কবি রাজীব কুমার দাশের কবিতাভুবন নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারে এই আয়োজন হয়।
শুরুতে সমবেত কণ্ঠে চর্যাপদের প্রথম পদ পরিবেশন করেন ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাধকশিল্পী শাহ আলম দেওয়ান, সাধিকা সৃজনী তানিয়া, বাউল অন্তর সরকার, শিলা মল্লিক, আনিস মুন্সী ও ফতেহ কালাম। পরে চর্যাপদের চতুর্থ পদ ‘তিঅড্ডা চাপী জোইনি দে অঙ্কবালী’ পরিবেশন করেন সাধিকা সৃজনী তানিয়া।
অনুষ্ঠানে রাজীব কুমার দাশের ‘সুখবতী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে তিনটি কবিতা আবৃত্তি করেন নূরুননবী শান্ত।
পরে নাট্যকার ও গবেষক শরণ এহসান ‘রাজীব দাশের নিরন্ন ললাট: কাব্যতত্ত্ব, সাহিত্যতত্ত্ব ও নন্দনতাত্ত্বিক পাঠ’ শীর্ষক প্রবন্ধ এবং গবেষক ও সাহিত্যবিশ্লেষক হাসান দবির উদ্দিন ‘প্রেম, বিশ্বাস ও সমকালীন মানুষের অন্তর্গত বিপর্যয়: রাজীব কুমার দাশের সুখবতী ও আমি আমার বিশ্বাসের কাছে লজ্জিত’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
শরণ এহসানের প্রবন্ধে ‘নিরন্ন ললাট’-এর প্রেম, বিচ্ছেদ, ক্ষুধা, সামাজিক বৈষম্য, প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক জীবন ও অস্তিত্বসংকটকে আন্তঃসম্পর্কিত কাব্যিক প্রবাহ হিসেবে বিশ্লেষণ করে শিরোনামটিকে ক্ষুধার্ত মানুষ, প্রেমবঞ্চিত হৃদয় ও অধিকারহীন সমাজের সম্মিলিত রূপক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
হাসান দবির উদ্দিনের প্রবন্ধে ‘সুখবতী’ ও ‘আমি আমার বিশ্বাসের কাছে লজ্জিত’ কাব্যগ্রন্থে ব্যক্তিগত প্রেম-বিরহের স্মৃতি, ডিজিটাল নিঃসঙ্গতা, সামাজিক ক্ষোভ, নৈতিক সংকট ও মানবিক দায়ে বিস্তারের মধ্য দিয়ে কবির অন্তর্মুখী প্রেমের লিরিক থেকে আত্মসমালোচনামূলক সামাজিক ও নৈতিক লিরিকে উত্তরণের দিকটি তুলে ধরা হয়।
প্রবন্ধ পাঠ শেষে আলোচনায় অংশ নেন কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক শাহেদ কায়েস; বাংলা একাডেমির সহপরিচালক, কবি ও গবেষক ড. আসাদ আহমেদ; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. গহর গালিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক জোবায়ের আবদুল্লাহ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নিজের কবিতাভুবন, সৃষ্টিপ্রক্রিয়া ও কাব্যচিন্তা নিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন কবি রাজীব কুমার দাশ। তিনি বলেন, ‘কবিতা আমার জীবনের অনুষঙ্গ। ইতিহাস, পুরাণ ও সমকালীন বাস্তবতার ভেতর দিয়ে আমি নিজেকে যেভাবে চিনতে চেষ্টা করি, তেমনি বর্তমান সময়কেও বোঝার চেষ্টা করি।’ শেষে তিনি নিজের সদ্য রচিত একটি কবিতা পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্তিম পর্বে চর্যাপদের কবি বীরূপা রচিত নতুন আবিষ্কৃত ‘না বলো ভালো না বলো মন্দ/সকলে মিলে হলো যে সঙ্গ’ শীর্ষক গান পরিবেশন করেন অন্তর সরকারের নেতৃত্বে ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাধকশিল্পীরা।
সবশেষে কবিতা ও গানের সহযোগে পাপেট শো পরিবেশন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতিমা বিনি ও অর্ণব মল্লিক। তাদের পাপেট শোতে যথাক্রমে শরণ এহসানের কথা ও অর্ণব মল্লিকের সুরে ‘চলো আমরা বই পড়ি’ এবং অর্ণব মল্লিকের কথা ও সুরে ‘ডাইনোসর’ শীর্ষক গান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. সাইমন জাকারিয়া।




