তথ্য উপদেষ্টা
অপরাধী বিএনপির হলেও ‘ছাড় পাবে না’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে। ছবি: আগামীর সময়
কোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া মাঝপথে থেমে থাকবে না এবং এতে ক্ষমতাসীন দলের লোক বা পুলিশের অবহেলা প্রমাণিত হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীতে সম্প্রতি বেশ কিছু স্থাপনায় হামলা-দখলবাজি নিয়ে প্রশ্নে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।
জাহেদ উর রহমান বলেছেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দায়বদ্ধতা আছে, দেশের কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে, স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা কেউ আক্রমণের শিকার হলে, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি অপরাধী হলেও সরকার প্রতিটি ঘটনায় দুঃখিত ও বিব্রত বোধ করে। কারণ প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষার মূল দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ভাঙচুর ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ধরা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করলেও হামলার পর বিএনপিকে জড়িয়ে তার বক্তব্যের সমালোচনা করেন উপদেষ্টা জাহেদ। সালমান মুক্তাদিরের ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রচার করায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সমালোচনাও করেন তিনি।
জাহেদ বললেন, ‘উনি (শফিকুর রহমান) ইনস্যান্টলি সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও দেখে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এখনো স্ট্যাটাসটা আছে। যেখানে তিনি চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করেই স্ট্যাটাস দিয়ে তারা সরকারকে ব্লেম করছেন, দলকে ব্লেম করছেন।
‘কিন্তু সালমান মুক্তাদির যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, এরপর নিজে স্বীকার করলেন যে ব্যাপারটা আসলে ওই রকম নয় এবং শুধু তার স্থাপনা না, আরো স্থাপনাও এখানে ভাঙচুর হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতার ফেসবুকে তো ওই স্ট্যাটাসটা এখনো রয়ে গেছে।’
উপদেষ্টা বলেছেন, ‘শুধু তিনিই নন, এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) অনেক সিগনিফিকেন্ট নেতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুধু বিএনপি কেন বিএনপির প্রধান এবং এই সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন।’
সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, ‘বক্তব্যের ছোট অংশ বিচ্ছিন্নভাবে নিয়ে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম না তৈরি করার অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে কোনো বক্তব্য বিকৃত না হয়।’



