‘কাঠের বেঞ্চের পরিবর্তে প্লাস্টিকের ব্যবহার’ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি
- প্রধানমন্ত্রীকে দেশীয় ফার্নিচার উদ্যোক্তাদের স্মারকলিপি

সংগৃহীত ছবি
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে কাঠের বেঞ্চের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বেঞ্চ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে সব ধরনের আসবাবপত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়। এতে দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের স্বার্থ রক্ষা, কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং সরকারি ক্রয়ে অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ফার্নিচার শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনমুখী ও শ্রমনির্ভর খাত। শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কাঠমিস্ত্রি, কারিগর, শ্রমিক, পরিবেশক ও সরবরাহকারীরা এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২৫ অক্টোবরের এক স্মারকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় কাঠের বেঞ্চের পরিবর্তে শ্রেণিভিত্তিক প্রোটোটাইপ অনুযায়ী দৃষ্টিনন্দন প্লাস্টিকের বেঞ্চ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে।
উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্লাস্টিকের আসবাবপত্রের জন্য বড় ও দীর্ঘমেয়াদি বাজার তৈরি হবে। এতে কাঠ ও বোর্ডভিত্তিক ফার্নিচার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ক্রয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ হারাতে পারে। পাশাপাশি এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তাদের মতে, কাঠের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বেঞ্চ ব্যবহারের বিষয়টি শুধু আসবাবপত্রের উপকরণ পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে দেশীয় শিল্পের উৎপাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা এবং সরকারি ক্রয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ও জড়িত। তাই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে এর অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও কারিগরি প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি নীতিনির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট উপকরণ বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। বরং জাতীয় অর্থনীতি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এজন্য কাঠ ও প্লাস্টিকের বেঞ্চের স্থায়িত্ব, ব্যবহারযোগ্যতা, নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব, মেরামতযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের তুলনামূলক মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, কোনো একটি উপকরণকে এককভাবে প্রাধান্য না দিয়ে গুণগত মান, স্থায়িত্ব, ব্যবহার উপযোগিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আসবাবপত্র কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সব যোগ্য উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীর অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে। এতে বলা হয়, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হবে। এমন কোনো শর্ত বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যাতে নির্দিষ্ট কোনো উপকরণ বা উৎপাদনকারী গোষ্ঠী একচেটিয়া সুবিধা পায়।
উদ্যোক্তারা মনে করেন, কাঠ, বোর্ড ও প্লাস্টিকসহ সব ধরনের আসবাবপত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এতে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে।
স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা, উৎপাদনকারী, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত নিতে হবে। পাশাপাশি একটি সমন্বিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের সক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের আসবাবপত্র ক্রয়ের নীতিমালা নির্ধারণ করতে হবে।



