মোবাইল কোর্টে নাগরিককে ইউএনওর মারধর, তদন্তের দাবি আসকের

ফাইল ছবি
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুর ঘাটে ইজারাদারের এক কর্মীকে চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে মারধর করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত ১২ আগস্ট কালীরবাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযানের সময় ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ইজারাদারের এক ব্যবস্থাপককে পরপর দুটি থাপ্পড় মারেন এবং লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন। পরে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আসক মনে করে, আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তার হাতে একজন নাগরিকের এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে সন্দেহ হলেও তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্যেই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আইন প্রয়োগের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কারও নেই।
আসক বলেছে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর কোনো বিধানেই কোনো ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড়, লাঠিপেটা বা শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া হয়নি। মোবাইল কোর্ট আইনে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিচার এবং আইনে নির্ধারিত শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা বা লাঞ্ছিত করা সেই ক্ষমতার অংশ নয়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত হওয়া জরুরি। শুধু ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ঘটনার তদন্ত করা। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।







