আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগে রাষ্ট্রপতিকে শিশির মনিরের চিঠি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিচারপ্রার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার আইন সচিবের মাধ্যমে এ চিঠি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যাত্রা শুরু করে মাত্র চারজন বিচারপতিকে নিয়ে। সে সময় আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৪০৫৬টি এবং দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ কোটি ৪৩ লাখ। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লাখে উন্নীত হয়েছে এবং বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার ৭১৩টিতে। এর বিপরীতে আপিল বিভাগে বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা মাত্র চার জন।
চিঠিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ১১ জন এবং বিচারাধীন মামলা ছিল ৫২৬০টি। ২০১১ সালে বিচারপতির সংখ্যা ১০ জন থাকলেও বিচারাধীন মামলা বেড়ে ১২ হাজার ৮৯১টিতে পৌঁছায়। ২০১৭ সালে বিচারপতির সংখ্যা কমে ৯ জন হলেও বিচারাধীন মামলা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ হাজার ৫৬৫টিতে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে বিচারপতির সংখ্যা ৯ জন থাকলেও বিচারাধীন মামলা প্রায় ১৯ হাজার ৯২৮টিতে উন্নীত হয়। ২০২৪ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আরও বেড়ে ৩১ হাজার ১২০টিতে পৌঁছায়, অথচ বিচারপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ৮ জন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সময়ে আইনের বিভিন্ন শাখায় বিশেষায়িত বিচারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। কিন্তু আপিল বিভাগে বিচারপতির স্বল্পতার কারণে বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে।
প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধিসংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করে অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা ৩৪ থেকে ৩৮ জনে উন্নীত করেছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।





