দাবি না মানলে ২৯ জুলাই থেকে অ্যাম্বুলেন্স বন্ধের আলটিমেটাম

ছবি: আগামীর সময়
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও টোল মওকুফসহ চার দাবি না মানলে আগামী বুধবার (২৯ জুলাই) থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধের আল্টিমেটাম দিয়েছে অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি।
আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এই হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, জরুরি সেবায় নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা বৈষম্য ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রোগীদের সঠিক সময়ে সেবা পৌঁছে দিতে ২৪ ঘণ্টা জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভাড়ায়চালিত প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বাণিজ্যিক রেজিস্ট্রেশন ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং স্থান বরাদ্দ করা এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যানকে টোলমুক্ত সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা ফরহাদ আক্ষেপ প্রকাশ করে বললেন, অনেক সময় জরুরি মুহূর্তে গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অ্যাম্বুলেন্সে সন্তান প্রসবের মতো ঘটনা ঘটে। এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস না পেলে জরুরি সেবা সচল রাখা সম্ভব নয়। অ্যাম্বুলেন্সকে সাধারণ মাইক্রোবাস হিসেবে গণ্য না করে এ খাতের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা এবং টোল আদায় বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
সমিতির সদস্য সচিব মো. বাদল মাদবর তাদের সেবামূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বললেন, করোনাকালীন মহামারি, রানা প্লাজা ধস কিংবা বড় বড় অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায় তাদের সংগঠনের সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তবে বর্তমানে প্রতিনিয়ত নানা বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। ভাড়ায়চালিত অ্যাম্বুলেন্সের জন্য উপযুক্ত বাণিজ্যিক রেজিস্ট্রেশনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেন সংগঠনের আহ্বায়ক ওমর ফারুক বাবু। তিনি বললেন, আগামী রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার—এই তিন দিনের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে বুধবার সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ থাকবে।
অধিকার আদায়ের স্বার্থে প্রয়োজনে তারা রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।




