মহাসড়কেও পাতা হচ্ছে জাল

চাঁদাবাজি, ছিনতাই-ডাকাতি, চোরাচালান ও বেপরোয়া গতির মতো অপরাধ ঠেকাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) সিসি ক্যামেরা। চলতি মাসের শেষেই আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবে হাইওয়ে পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের আশা, সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া ও যানজট নিয়ন্ত্রণেও প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এআইভিত্তিক ভিডিও সার্ভিল্যান্সের আওতায় আনা হচ্ছে। এ মহাসড়কে আগে থেকেই থাকা ১ হাজার ৪৭০টি সিসি ক্যামেরাকে এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতেও এআই ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ।
এআই ক্যামেরা মূলত দুভাবে কাজ করবে। একদিকে ট্রাফিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, যানবাহন মনিটরিং, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা, অতিরিক্ত গতি শনাক্ত ও ভিডিও বিশ্লেষণ; অন্যদিকে গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত, ক্লোন নম্বরপ্লেট ও অবৈধ যানবাহন চিহ্নিত, ট্রাফিকপ্রবাহ বিশ্লেষণ এবং অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল তথ্য সরবরাহ করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এরই মধ্যে ১৬টি চেকপোস্টে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চলছে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ বলেছেন, অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে এআই নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
এদিকে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নজরদারিতে হাইওয়ে পুলিশের হাতে দেওয়া হয়েছে ৪০০ বডি-ওর্ন ক্যামেরা। চালু হয়েছে ‘হ্যালো এইচপি’ অ্যাপ, প্রবাসীদের জন্য হেল্প ডেস্ক এবং অভিযোগ জানানোর কমপ্লেইন সেলও।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, শুধু ক্যামেরা বসালেই হবে না; ডাকাতি-ছিনতাইপ্রবণ দুর্গম এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে ফুটেজ সংরক্ষণ ও ব্যবহারে রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি।






