স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরে জাতীয় হ্যাকাথনের ডাক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর
- এক মাস চলবে রেজিস্ট্রেশন
- দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে হবে ৩ দিনের বুটক্যাম্প

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। আজ রবিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে। ছবি: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের সমন্বিত স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার সুরক্ষা ও গবেষণায় কাজে লাগাতে এবং ‘ই-হেলথ কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় হ্যাকাথনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে তৃণমূলের তরুণ উদ্ভাবকদের মেধা ও নতুন আইডিয়া তুলে আনতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অংশীদারত্বে এই বিশেষ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে।
আজ রবিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এ কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা ঘোষণা করেন। সেখানে আরো বক্তব্য দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
হ্যাকাথনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন ই-হেলথ কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন অনেকেই আলাদাভাবে নানা চমৎকার আইডিয়া নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে স্বাস্থ্য খাতের একেকটি উদ্যোগ আলাদা ‘সাইলো’ বা গণ্ডিতে আটকে থাকে, যা পরবর্তীতে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। ডিজিটাল সিস্টেমে প্রতিটি বিভাগ যেন পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হতে পারে (ইন্টারঅপারেবিলিটি), সে লক্ষ্যেই এই হ্যাকাথনের মাধ্যমে সবাইকে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডারের সুবিধা তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলছিলেন, ‘একবার কল্পনা করুন—২০ কোটি মানুষের একটি বিশাল স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে। একজন নাগরিক যতবার চিকিৎসকের কাছে যাবেন, যতবার ডিসপেনসারি থেকে ওষুধ কিনবেন কিংবা ল্যাব টেস্ট করাবেন—সব মেডিকেল রেকর্ড সেখানে নিয়মিত যুক্ত হতে থাকবে।’
এই তথ্যভাণ্ডার নিয়ে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোও আগ্রহ দেখাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেই এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
হ্যাকাথনের অংশগ্রহণ ও পরবর্তী ধাপের বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো তরুণের উদ্ভাবনী মেধা যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্যই এই জাতীয় উদ্যোগ। আগামী এক মাসব্যাপী এই হ্যাকাথনের নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
নিবন্ধন ও বাছাই পর্ব শেষে নির্বাচিত দলগুলোকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় তিন দিনব্যাপী একটি নিবিড় 'বুটক্যাম্প' অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সরাসরি তরুণদের পরামর্শ দেবেন, যাতে তাদের প্রাথমিক ধারণাগুলো টেকসই ও কার্যকর বাস্তব রূপ পায়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত আনুমানিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বাজার, যা সঠিক তথ্যের অভাবে এখনও পুরোপুরি মূল্যায়িত হয়নি। স্বাস্থ্য খাত ডিজিটালাইজড হলে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বড় বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
হ্যাকাথন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে তদবির বা নেপোটিজমের সুযোগ বন্ধ করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও স্বচ্ছতা তৈরিতে এমন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা দারুণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক তরুণের সেরা উদ্ভাবনী ভাবনাও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।’



