বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস আজ

প্রতীকী ছবি
আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর আজ ২৫ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। ‘ম্যালেরিয়া নির্মূলে বদ্ধপরিকর: এখনই আমরা পারি, এখনই আমাদের করতে হবে’ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে দিবসটি।
২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির ৬০তম অধিবেশনে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের প্রস্তাবনা করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ২০০১ সালের ২৫ এপ্রিল দিবসটি প্রথম পালন করা হয় আফ্রিকায়।
একসময় ম্যালেরিয়া ছিল দেশের বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তবে সরকারের উদ্যোগ ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রচেষ্টায় গত দেড় দশকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক কমেছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৪ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে স্থানীয়ভাবে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ দেশের ১৩টি জেলা ম্যালেরিয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ,এই তিন মাসে অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ৪৬০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
দেশে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রভাবে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার কারণে ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত।
তারা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা—এসবই মশার বংশবিস্তার বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে এ প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও জঙ্গলে চলাচলের কারণে তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকছেন। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা নিতে অনীহা থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বান্দরবানে ২১৪ জন, রাঙামাটিতে ১৭৯ জন, কক্সবাজারে ৪৯ জন, খাগড়াছড়িতে ১৩ জন এবং চট্টগ্রামে ৫ জন। এর আগে ২০২৫ সালে দেশে মোট ১০ হাজার ১৬২ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এবং মারা যান ১৬ জন।
দেশে ম্যালেরিয়ার জীবাণুতে জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ পরিবর্তনের ফলে শরীরে জীবাণু থাকলেও প্রচলিত পরীক্ষায় তা ধরা পড়ছে না। এমন পরিস্থিতিতে রোগ শনাক্তে নতুন কিট ব্যবহার শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। যদিও এ কিটের কার্যকারিতা দুই বছর ধরে পরীক্ষা করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পরীক্ষার কিট বদলালেই হবে না, ব্যবহৃত ওষুধ ও টিকার কার্যকারিতাও নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি। কারণ, জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী ধরন তৈরি হলে চিকিৎসা কম কার্যকর হতে পারে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেছেন, ম্যালেরিয়া জীবাণুর মধ্যে এইচআরপি-২/৩ জিনের অনুপস্থিতি গত বছর শুরুতে র্যাপিড কিটকে ফাঁকি দিচ্ছে– এমন তথ্য আসে অধিদফতরের কাছে। এতে রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছে না, যা জীবনঘাতী হতে পারে। রাঙামাটির ঘটনাটি প্রমাণ করে, এ পরিবর্তন ইতোমধ্যে ঘটেছে। এখন শুধু কিট পরিবর্তন নয়, বরং ব্যবহৃত ওষুধ ও টিকার কার্যকারিতা পুনরায় মূল্যায়ন করা জরুরি।

