রিজভী
টিকাবিরোধী অপপ্রচার বাড়িয়েছে হামের ঝুঁকি

স্বাস্থ্য দিবসের র্যালিতে বক্তব্য দিচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী
টিকাবিরোধী অপপ্রচার, কুসংস্কার ও স্বাস্থ্য খাতে অবহেলার কারণেই দেশে বেড়েছে হামের ঝুঁকি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি হতে পারে আরও জটিল। আজ মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক সমাজ ও জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান তার। এদিন রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু করে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। সেখানে অংশ নিয়েছিলেন রিজভী।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনে করেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান এবং সুরক্ষিত সবার জীবন।’ এই প্রতিপাদ্যের মূল কথা হচ্ছে, সবাইকে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকতে হবে। বিজ্ঞানের সঙ্গে না থাকলে সঠিক রোগ নির্ণয়, সুস্বাস্থ্য এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত সম্ভব নয়।’
তার ধারণা, বর্তমানে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে টিকাবিরোধী প্রচার ও কুসংস্কার অন্যতম কারণ। উন্নত বিশ্বেও একটি ‘অ্যান্টি-ভ্যাকসিন’ গোষ্ঠী সক্রিয়। ফলে সমাজে এখনও ছড়িয়ে আছে অন্ধত্ব, ভুল ধারণা ও কুসংস্কার।
‘করোনার সময় বরাদ্দ চাল ও গম তৎকালীন চেয়ারম্যানদের বাড়ির নিচে পাওয়া গেছে। বহু মানুষের জীবন গেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার অত্যন্ত উদ্দীপ্ত ও সক্রিয়। তবে জনস্বার্থকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও যথেষ্ট নজর পায়নি স্বাস্থ্য খাত।’
রিজভী জানান, গত ১২ ও ১৩ মার্চ থেকে এপ্রিলের এই সময়ের মধ্যে ৩৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এখন হামের ‘হটস্পট’। তিনি উল্লেখ করছিলেন, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সাতজন শিশু মারা গেছে। শিশুদের মৃত্যু মানুষের হৃদয় নাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ যেন স্পষ্টভাবে দেখতে পায়, এটি একটি জনবান্ধব সরকার।
এতদিনেও কেন হাম নির্মূল হলো না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তাদের দাবি, দেশে একটি মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল আছে, কিন্তু সেখানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। দুই–তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে জার্নাল রিভিউতে ২৩ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হলে গবেষণা ব্যয় আরও বেড়ে যায়। বিজ্ঞানের জন্য, গবেষণার জন্য আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী এবং নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা।















