স্পেনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দল, কমল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জট
- ১২ দিনে দেওয়া হলো ২ হাজার ২৪৯ জনের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট

সংগৃহীত ছবি
স্পেনে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশিদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জট কমল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি প্রতিনিধি দল মাত্র ১২ দিন স্পেনের বার্সেলোনা এবং মাদ্রিদে অবস্থান করে ২ হাজার ২৪৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা দিয়েছে।
চার সদস্যের বিশেষায়িত এই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার জাহিদুর রহমান। দেশে ফিরে এসবির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নূরুল আমিন বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব তথ্য তুলে ধরে প্রতিনিধি দল।
এতে বলা হয়, বিদেশে কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আবেদন নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, স্পেন সরকারের অভিবাসন নীতিমালার আওতায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে স্পেনে অবস্থানরত ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ হওয়ার সুযোগ দেয়। এজন্য ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন আবেদন গ্রহণের সুযোগ দেয় স্পেন সরকার। এর ফলে স্পেনে অবস্থানরত প্রায় ২০ হাজারের বেশি অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স গুরুত্বপূর্ণ নথি হয়ে ওঠে। এই জটিলতা দূর করতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চার সদস্যের একটি দল স্পেনে পাঠায়।
স্পেনের মাদ্রিদ মিশনের ডেপুটি চিফ দীন মোহাম্মদ ইমাদুল হক আগামীর সময়কে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা প্রতিনিধি দলের কারণে ২ হাজার ২৪৯ জনকে অল্প সময়ের মধ্যে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটা স্পেন সরকারের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক বেড়েছে। প্রবাসীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব বলে স্বাগত জানিয়েছেন।
এসবি সূত্র বলছে, প্রতিনিধি দলটি ৮ মে বার্সেলোনায় পৌঁছে ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সেবা দেয়। পরে ১২ মে মাদ্রিদে গিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে কার্যক্রম শুরু করে। চাহিদা বাড়ায় তাদের দায়িত্ব ২০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। প্রতিনিধি দলটি সরাসরি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ দেয়। ভুল তথ্য সংশোধনও করে। অনলাইনে আবেদন করতে না পারা নাগরিকদের সহায়তা দেয়।
একই সঙ্গে নোটারি ও ই-অ্যাপোস্টিল নিয়েও পরামর্শ দেয়।
এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহিদুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘২০ টির মতো আবেদন এখনো পেন্ডিং রয়েছে। এগুলোর যাচাই-বাছাই চলছে। আবেদনকারীদের অনেককে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এজন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য এখানে অনেক গুরুত্ব পাচ্ছে।’
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট ও ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা অসঙ্গতিপূর্ণ হলে আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এতে বিদেশগামী কর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সময় ও খরচ দুটোই কমছে।






