মেট্রোরেল হচ্ছে আরও দুটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকায় মেট্রোরেল অবকাঠামো সম্প্রসারণে সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নসহ ১৯টি কেনাকাটার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাস্তবায়নাধীন ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্প (লাইন-১ ও লাইন-৫: উত্তর রুট)-এর আওতায় এসব পূর্ত ও সেবা খাতের কাজ চলছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদি এ প্রকল্পগুলো যৌথভাবে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকা, যা বাস্তবায়ন করছে ডিএমটিসিএল।
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত লাইন-১ (ডিপো ও মূল লাইন)-এর ডিপোর অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’; এর খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ টাকা। মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য ‘নিশিমাতসু-টিপিএল-তোদা জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রামপুরা থেকে নতুন বাজার অংশের কাজ পেয়েছে ‘তোকিউ-এমআইএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’, যার মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মেইন লাইনের অন্য অংশের কাজ ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’।
রেললাইন স্থাপন ও বৈদ্যুতিক সুবিধার কাজ ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় ‘এলঅ্যান্ডটি-সুমিটোমো কনসোর্টিয়ামকে’ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ট্রেন পরিচালন সংকেত, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর বসানোর কাজ ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড’।
লাইন-৫ (উত্তর রুট)-এর হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার ও নতুন বাজার থেকে ভাটারা অংশ নির্মাণের কাজ ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’। একই রুটের ডিপো এলাকার কাজের জন্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায় ‘সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সার, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও অন্য কেনাকাটা: কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘কাফকো’ থেকে তৃতীয় চালানে ৩০ হাজার টন বস্তাজাত ইউরিয়া সার ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় কেনা হবে।
সৌদি আরবের ‘সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস’ থেকে ষষ্ঠ চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ফার্টিগ্লোব’ থেকে প্রথম চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া জিটুজি চুক্তির আওতায় মরক্কোর ‘ওসিপি নিউট্রিক্রপস’ থেকে দুই চালানে মোট ৮০ হাজার টন ডিএপি সার প্রতি চালানে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। একই কোম্পানির কাছ থেকে দুই চালানে টিএসপি সার কেনা হবে, যার দর ধরা হয়েছে প্রতি টন ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।



