নজর পিপিপি ও বেসরকারি খাতে
- তিন অর্থবছরে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য
- বিনিয়োগ বাড়াতে লক্ষ্য
- বিনিয়োগ বাড়াতে সংস্কার

বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নের পথে হাঁটছে সরকার। এজন্য আগামী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ৩২ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে ওয়ান-স্টপ সেবা চালু, পিপিপি কাঠামো শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, ডিজিটাল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা এবং ডিরেগুলেশন বা অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন আগামীর সময়কে বললেন, নির্বাচনী ইশতেহারে বিনিয়োগ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এবারের বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। এটি প্রচলিত বাজেটের তুলনায় কিছুটা ভিন্নধর্মী। কারণ এখানে শুধু একটি অর্থবছরের পরিকল্পনা নয়, বরং ২০৩১ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে। বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমানো, কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
বাজেট নীতি বিবৃতিতে বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকার এবার শুধু এক অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়নি; বরং বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি খাতের বিকাশকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক যাত্রাপথও তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ব্যবসা সহজীকরণ, বিনিয়োগে নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানো, অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতকে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার কৌশল উঠে এসেছে বাজেটে।
তিন অর্থবছরে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি দাঁড়াবে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে জিডিপি ৭৬ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সময়ে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে জিডিপির আকার ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেই সময় মোট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ অর্থনীতিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।
বিনিয়োগ বাড়াতে লক্ষ্য
বাজেটের মধ্যমেয়াদি নীতি কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ ও ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি অর্থায়নের ওপর চাপ কমাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলকে সম্প্রসারণ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে সংস্কার
বাজেটের নীতি অবস্থান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’। এজন্য চারটি প্রধান খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো— ওয়ান-স্টপ বিনিয়োগকারী সেবা চালু ও কার্যকর, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামো আরও শক্তিশালীকরণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) উন্নয়ন, ডিজিটাল লাইসেন্সিং এবং ডিরেগুলেশন বাস্তবায়ন করা।
এবারের বাজেটকে নিছক রাজস্ব আহরণ ও ব্যয় বরাদ্দের দলিল হিসেবে দেখতে নারাজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার তিনি বলেছেন, এটি মূলত অর্থনৈতিক দর্শনের পরিবর্তনের একটি প্রচেষ্টা— একটি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার রূপরেখা। যেখানে রাষ্ট্রের নীতির কেন্দ্রে থাকবে সাধারণ মানুষ, উৎপাদনশীল খাত ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার। এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।


