ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশে আর কোনো দিন স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বা স্বৈরাশাসকের উৎপত্তি হতে না পারে, সে জন্য প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করে ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে যাতে তা টেকসই হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র পাহারা দেওয়ার জন্য কার্যকর ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আজ শনিবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর প্রথম পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হারাতে হতো। বাহাত্তরের সংবিধানে সংকটের চেয়ে সুযোগ বেশি ছিল। কিন্তু মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষমতালিপ্সার কারণে সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান যেমন বাকশাল গঠন করেছিলেন, তার কন্যা শেখ হাসিনাও বাবার পথ ধরে বাকশাল-২ গঠন করেছিলেন।’
জুলাই সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক সমোঝতা আইনি ভিত্তি থেকে কম কিছু নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা শুধু সংবিধান সংস্কারই নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণের পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করাটা আরও বেশি জরুরি।’
জুলাই জাদুঘরের উদ্যোগে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর প্রথম পর্বে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক আলোচনায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘বেশ কিছু কালাকানুন বাদ দেয়ার মাধ্যমে বাহাত্তরের সংবিধানটি খুবই চমৎকার একটি সংবিধান হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় শেখ মুজিবুর রহমানের আমলেই সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্টের মাধ্যমে সেই কালাকানুনগুলো আবার যুক্ত করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘বাকশাল কোনো একদলীয় শাসন নয়; বরং এক ব্যক্তির শাসনের জন্যই বাকশাল করা হয়েছিল।’
সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পুঁজির উৎপাদক ছিল না; বরং আওয়ামী লীগ ছিল পুঁজির লুণ্ঠনকারী। তৃণমূল পর্যায়ের এই আর্থরাজনৈতিক বাস্তবতা একসময় রাষ্ট্র নিজেও চর্চা শুরু করে, যার পরিণতি বাকশাল।’
আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সংবিধান কখনোই স্বৈরতন্ত্র তৈরি করে না; বরং ক্ষমতাসীন ব্যক্তির অভিপ্রায়ই স্বৈরতন্ত্র তৈরি করে দেয়। তা না হলে বাহাত্তরের সংবিধানের পরও শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল গঠনের প্রয়োজন হতো না।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক চর্চায় জুলাই জাদুঘর সামনে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করবে। সেমিনার সিরিজটির পরের পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।'
গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর প্রথম পর্বে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।



