Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
গরিবের ডাক্তার খুরশীদ আলম
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় জাতীয়

বিশ্লেষণ

‘ক্লিন হার্ট’ থেকে ‘ডেভিল হান্ট’: হাতিয়ার না টোটকা

রাকিব হাসান
রাকিব হাসান
agamir somoy
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১৪
‘ক্লিন হার্ট’ থেকে ‘ডেভিল হান্ট’: হাতিয়ার না টোটকা

প্রতীকী ছবি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার এক বছরের মাথায় ২০০২ সালের অক্টোবরে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’। দেশজুড়ে চালানো যৌথ বাহিনীর সেই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল খুন, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ নির্মূল। দুই দশক পর পর বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর এখন আবার আলোচনায় যৌথ অভিযান; যদিও এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই জানাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অপরাধ দমন, জঙ্গিবাদ নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন বিশেষ অভিযান বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সরকারের সময়েই তা দেখা গেছে। এসব অভিযানে কখনো দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে। কখনো আবার মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তারের অভিযোগে হয়েছে বিতর্কিত। বিশেষ অভিযানের কার্যকারিতা, আইনের শাসন এবং জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই রয়ে গেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বিশেষ অভিযান কি অপরাধ দমনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান, নাকি সাময়িক স্বস্তি তৈরির একটি কৌশল?

অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা, তদন্তের স্বচ্ছতা, অপরাধের সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন।

অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার, জঙ্গি তৎপরতা কিংবা জননিরাপত্তার অবনতির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সরকার বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কখনো সেনাবাহিনী, কখনো পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (সদ্য বিলুপব্ত), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং কখনো একাধিক বাহিনীর সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

অভিযানের নাম, ধরন ও লক্ষ্য ভিন্ন হলেও মূল যুক্তি প্রায় একই—প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা।

ক্লিন হার্ট: সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কের উত্তরাধিকার

২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে শুরু হয় ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’। সে সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে দেশব্যাপী অভিযান শুরু হয়।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযান শুরু হয়েছিল মধ্যরাতে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়ে। অভিযান শুরুর আগে পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি। সেনা সদস্যদের গাড়ি যখন রাস্তায় নামে তখনই সবাই বুঝতে পারেন, অভিযান শুরু হয়েছে।

সরকারের তরফ থেকে তখন বলা হচ্ছিল যে এটি সেনাবাহিনী-পুলিশ-বিডিআরের যৌথ অভিযান। প্রকৃতপক্ষে পুরো অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী।

সেনা সদস্যরা তালিকাভুক্ত অপরাধীদের বাইরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল। জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ঢাকার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র। তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমানের গাড়িবহর সাভারে পড়েছিল তল্লাশির মুখে।

ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাসায়ও চলে তল্লাশি। আমির হোসেন আমু, আবদুল জলিল, শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বাসায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। শেখ সেলিমকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।

তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, বেশিরভাগই ছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মী।

সরকারের পক্ষ থেকে অপরাধ দমনের উদ্যোগ হিসেবে অভিযানটির যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলেও পরবর্তী সময়ে হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন এবং আটক ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ৪০ জনের বেশি মানুষের হেফাজতে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। যাদের মৃত্যু হয়েছিল, তাদের এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী। এছাড়া আওয়ামী লীগেরও বেশ কিছু নেতাকর্মী ছিলেন এই তালিকায়।

তৎকালীন আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ তার বইয়ে লিখেছেন, হিসেবভেদে এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪০ থেকে ৬৫ জন। এসব মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অভিযানের মানবাধিকারগত প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৮৪ দিন চলেছিল এই অভিযান। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, অপারেশন ক্লিনহার্ট চলাকালে ১২ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। উদ্ধার করা হয়েছিল দুই হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩০ হাজার রাউন্ড গুলি। এই অভিযানে প্রায় ২৪ হাজার সেনা সদস্য, সাড়ে তিন শ নৌ, প্রায় এক হাজার বিডিআর, প্রায় সাতশ আনসার ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিলেন।

অভিযান শেষে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করাও দিয়েছিল বিতর্কের জন্ম। ২০১৫ সালে হাইকোর্ট ওই অভিযানে সংঘটিত হতাহতের ঘটনায় দায়মুক্তি দেওয়ার আইনকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

এই ঘটনা বাংলাদেশের বিশেষ অভিযানগুলোর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই দায়িত্ব পালনের সময় আইনের ঊর্ধ্বে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান: নিরাপত্তা সক্ষমতার নতুন অধ্যায়

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এক নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে হত্যার এই ঘটনা জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে আসে।

পরদিন সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর মাধ্যমে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে। এরপর ২০১৬ ও ২০১৭ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’, ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’, ‘অপারেশন হিটব্যাক’, ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ এবং ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’ উল্লেখযোগ্য।

এসব অভিযানের মধ্য দিয়ে জঙ্গি আস্তানা শনাক্ত, বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনা এবং একাধিক বাহিনীর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ আটকে থাকা ভবনে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট হয়।

তবে জঙ্গিবাদ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা এটিও দেখিয়েছে যে কেবল অভিযান পরিচালনা করে উগ্রবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের অর্থায়ন, অনলাইন প্রচার, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং সামাজিক প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রয়োজন। অর্থাৎ অভিযান হতে পারে নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অংশ, কিন্তু সামগ্রিক সমাধান নয়।

শাপলা চত্বরে অভিযান: তথ্যের স্বচ্ছতার প্রশ্ন

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও অভিযান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা হয়ে আছে। ৬ মে ভোরে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে অবস্থান কর্মসূচি সরিয়ে দেওয়া হয়।

এই অভিযানে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি বক্তব্য এবং মানবাধিকার সংগঠন অধিকারসহ বিভিন্ন পক্ষের তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। ফলে অভিযানটির প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বলপ্রয়োগের মাত্রা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অভিযান পরিচালনা করেই শেষ হয় না। বরং কী পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, কতজন হতাহত হয়েছেন, কী ধরনের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না—এসব বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ জরুরি। কারণ তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অপারেশন ডেভিল হান্ট: প্রেক্ষাপট নতুন, প্রশ্ন পুরোনো

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর, সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।

এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু করে, নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। এতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনী অংশ নেয়। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো।

অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তী সময়েও দেশজুড়ে গ্রেপ্তার ও তল্লাশি অব্যাহত থাকে। তবে অভিযান চলার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয়, অভিযোগের ভিত্তি এবং অভিযানের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

বিবিসি বাংলার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর এক প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজনদের বক্তব্য এবং মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। তাদের বক্তব্যে বিশেষ অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ, আটক ব্যক্তিদের আইনি অধিকার এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে অভিযানকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

ফলে ডেভিল হান্টের মূল্যায়নে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি—অভিযানের মাধ্যমে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সেই গ্রেপ্তারের ফলে অপরাধপ্রবণতা ও জননিরাপত্তায় বাস্তব কী পরিবর্তন এসেছে।

গ্রেপ্তারই কি সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি?

বিশেষ অভিযানের ক্ষেত্রে সাধারণত গ্রেপ্তারের সংখ্যা, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, মাদক কিংবা বিস্ফোরক এবং পরিচালিত অভিযানের পরিসংখ্যানকে সাফল্যের সূচক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো দিয়ে কি সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি পরিমাপ করা যায়?

একটি অভিযানে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও যদি পরবর্তী সময়ে অপরাধপ্রবণতা না কমে, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা একই অপরাধী চক্র নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে সেই অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

অন্যদিকে, অপরাধের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণের প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হয়।

নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হলে তার ব্যক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনআস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সুতরাং বিশেষ অভিযানের সাফল্য নির্ধারণে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নয়, বরং অপরাধ হ্রাস, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, জননিরাপত্তার উন্নতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

মানবাধিকার ও জবাবদিহি: নিরাপত্তার অপরিহার্য শর্ত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের প্রধান উদ্দেশ্য নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে রাষ্ট্রের আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিশেষ অভিযানে আটক ব্যক্তির পরিচয়, গ্রেপ্তারের কারণ, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং আদালতে হাজির করার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন কিংবা বেআইনি বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

অভিযানের সময় বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাদের কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারিও প্রয়োজন। অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ে।

এখানে একটি মৌলিক বিষয় মনে রাখা দরকার-মানবাধিকার রক্ষা এবং অপরাধ দমন পরস্পরবিরোধী নয়। বরং আইনের যথাযথ প্রয়োগ অপরাধ দমনকে অধিক গ্রহণযোগ্য ও টেকসই করে তোলে।

স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

বাংলাদেশে বিশেষ অভিযানের পুনরাবৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে—কেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে বারবার বিশেষ অভিযানের ওপর নির্ভর করতে হয়? এর উত্তর খুঁজতে হলে অপরাধের তাৎক্ষণিক কারণের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলোও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো, সাক্ষী সুরক্ষা, অবৈধ অস্ত্রের উৎস শনাক্ত এবং অপরাধের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার মতো উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় নয়, বরং নির্দিষ্ট অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণই আইনগত পদক্ষেপের ভিত্তি হওয়া উচিত।

বিশেষ অভিযান পরিচালনার আগে সুস্পষ্ট লক্ষ্য, নির্দিষ্ট সময়সীমা, আইনি কাঠামো এবং সাফল্য মূল্যায়নের মানদণ্ড নির্ধারণ করা গেলে এর কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। অভিযান শেষে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও গ্রেপ্তার, অভিযোগপত্র, বিচারিক অগ্রগতি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং জননিরাপত্তার পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য থাকা প্রয়োজন।

মূল কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের বিশেষ অভিযানগুলোর ইতিহাসে রয়েছে অপরাধ দমনের উদ্যোগ, নিরাপত্তা সক্ষমতার বিকাশ, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা এবং একই সঙ্গে মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর বিতর্ক। এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।

জনগণ নিরাপত্তা চায়, অপরাধের প্রতিকার চায় এবং রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। কিন্তু নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নামে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ব্যাহত হলে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না। বিশেষ অভিযান তাই কখনোই স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে না; বরং এটি হতে হবে আইনসম্মত, লক্ষ্যভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক একটি সাময়িক ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রের শক্তি শুধু অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার সক্ষমতায় নয়, বরং নিরপরাধ নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা, অপরাধের নিরপেক্ষ বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্যেও নিহিত। বিশেষ অভিযানের প্রকৃত সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে এই প্রশ্নে—অভিযান শেষে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ বোধ করছেন এবং রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁদের আস্থা কতটা বেড়েছে।

* লেখক: উপ-বার্তা সম্পাদক, আগামীর সময়

আইনশৃঙ্খলাবিশেষ অভিযানমানবাধিকার
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, ১৭ জনের নামে মামলা

    শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, ১৭ জনের নামে মামলা

    চট্টগ্রাম দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটিকে ‘লালকার্ড দেখাচ্ছেন’ বিএনপির এমপিরা

    চট্টগ্রাম দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটিকে ‘লালকার্ড দেখাচ্ছেন’ বিএনপির এমপিরা

    এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপস!

    এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপস!

    নারীদের সঙ্গে ‘অবাধ বিচরণ’-চুরির অভিযোগে আম্মারকে অব্যাহতি দেয় শিবির

    নারীদের সঙ্গে ‘অবাধ বিচরণ’-চুরির অভিযোগে আম্মারকে অব্যাহতি দেয় শিবির

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুই দফা ইনজেকশন, তবুও বেঁচে রইলেন নারী

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুই দফা ইনজেকশন, তবুও বেঁচে রইলেন নারী

    শেখ মুজিব হলের নামফলক থেকে মুছে যাচ্ছে ওসমান হাদির নাম

    শেখ মুজিব হলের নামফলক থেকে মুছে যাচ্ছে ওসমান হাদির নাম

    চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধি মানে না কোনো সরকারই

    চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধি মানে না কোনো সরকারই

    পাবিপ্রবিতে খাতা মূল্যায়নে ‘কোডিং সিস্টেম’ চালু

    পাবিপ্রবিতে খাতা মূল্যায়নে ‘কোডিং সিস্টেম’ চালু

    শাবিপ্রবিতে ৬ পদের বিপরীতে ৬ গুণ শিক্ষক নিয়োগ

    শাবিপ্রবিতে ৬ পদের বিপরীতে ৬ গুণ শিক্ষক নিয়োগ

    ফ্লাইটে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ দেখানো বন্ধ, যা বলছে বিমান

    ফ্লাইটে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ দেখানো বন্ধ, যা বলছে বিমান

    ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ

    ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ

    পদত্যাগের নির্দেশ পেয়ে এমপি মিষ্টি স্পিকারের দপ্তরে

    পদত্যাগের নির্দেশ পেয়ে এমপি মিষ্টি স্পিকারের দপ্তরে

    শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

    শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

    পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মিষ্টি

    পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মিষ্টি

    প্রথম দুই-তিন লাইন পড়েই ঠিক করি অনুবাদ করতে হবে

    প্রথম দুই-তিন লাইন পড়েই ঠিক করি অনুবাদ করতে হবে