রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন

রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র—ফাইল ছবি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন মিলেছে। আজ বৃহস্পতিবার এ অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দারপ্রান্তে পৌঁছে গেল প্রথম ইউনিট।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধাপে নানান জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এই কেন্দ্রের কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে। আজ যে অনুমোদনটি মিলেছে সেটি মূলত সি-স্টেজে যাওয়ার অনুমোদন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যেখানে রিয়্যাক্টরের মাধ্যমে ‘থার্মাল পাওয়ার’ উৎপাদন শুরু হবে। যেটি স্টার্টআপ হিসেবে পরিচিত।
পারমাণবিক ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। সি-স্টেজের আগের ধাপ হলো বি-২। এই ধাপে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হয়, যার থার্মাল পাওয়ার থাকে ১ শতাংশের নিচে। এখন সি-স্টেজে এটিকে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই সময়েও করা হবে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২৫ থেকে ৩০ দিন পর বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সিনক্রোনাইজ বা সংযুক্ত করা হবে। এরপর টারবাইনের মাধ্যমে শুরু হবে সেই কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ উৎপাদন।
ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন যখন ৩০০ মেগাওয়াট হবে, তখন তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এভাবে কয়েকদিন চলবে। এরপর বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণ ক্ষমতায় যেতে ৮ থেকে ১০ মাস সময় লাগবে।
দুই ইউনিটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটির উৎপাদন সক্ষমতা ১১৫০ মেগাওয়াট। দুই ইউনিট মিলে ২৩০০ মেগাওয়াট। এখান থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে কমবেশি ২১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে এসব ব্যবস্থার মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে। বিশেষ করে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাগুলো স্বাভাবিক পরিচালন পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
স্টেজ-সি পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত করা। এ প্রক্রিয়ায় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থার নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, যা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে মূল চুক্তি অনুযায়ী, সময় বাড়লেও প্রকল্পের ইউরো বা ডলারের ঠিকাদারি ব্যয় বৃদ্ধি পায়নি।
তবে স্থানীয় বাজারে ডলারের বিনিময় হার বাড়ার কারণে টাকার অঙ্কে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।



