১৫ বছরেও মেলেনি পাওনা, গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি

৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা, ছবি: আগামীর সময়
১৫ বছর ধরে আইনসিদ্ধ ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’র ব্যানারে গণ-অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে অংশগ্রহণকারীরা ৩৮০০ পরিবারের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াসহ নানা স্লোগানে বকেয়া পরিশোধের দাবি জানান।
গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী নজরুল ইসলামের ভাষ্য, ‘গ্রামীণফোনের হাজারো সাবেক কর্মী প্রায় ১৫ বছর ধরে তাদের আইনসিদ্ধ পাওনা থেকে বঞ্চিত। দেশের অন্যতম বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও গ্রামীণফোন দীর্ঘদিন ধরে সাবেক কর্মীদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করছে।’
তিনি যোগ করলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী কোম্পানির মুনাফার একটি অংশ শ্রমিকদের প্রাপ্য। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করলে বিলম্ব জরিমানারও বিধান আছে। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সেই বিলম্ব জরিমানার বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।’
নজরুল ইসলাম বললেন, ‘২০১৫ সালে আদালতের নির্দেশে মূল পাওনা পরিশোধ করা হলেও বিলম্ব জরিমানার হার নির্ধারণে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে মূল অর্থ পাওয়ার পরও বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত সাবেক কর্মীরা।’
সমাবেশে সাবেক কর্মী রাবেয়া খাতুনের মত, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার কোনো দয়া নয়, এটি আইনসিদ্ধ প্রাপ্য। আমরা আমাদের অধিকার চাই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
আমরা একটি ‘উইন-উইন’ সমাধান চাই। গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে, তাহলে একটি দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব। আমরা সংঘাত নয়, সমাধান চাই, আরও বললেন সাবেক এই কর্মী।
সমাবেশে বক্তারা আরো জানান, ‘আন্দোলনটি নতুন নয়। গত ১৭ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সম্প্রতি ঈদুল আজহার আগ থেকেই গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। একইসঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, বগুড়া ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়েছে।’
কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।




