লক্ষ্মীপূজা-প্রবারণা পূর্ণিমায় আলোর উৎসব

বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমায় চট্টগ্রামের বৌদ্ধবিহারে উৎসবের আবহ। গতকাল সন্ধ্যায় নন্দনকানন বৌদ্ধমন্দিরের সামনে -রনি দে
উৎসবমুখর পরিবেশে দেশে উদযাপিত হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা বা কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। একই সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা উদযাপন করলেন তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা।
গতকাল রবিবার রাতে পূর্ণিমা তিথিতে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে হয় লক্ষ্মীপূজা। পঞ্জিকা অনুযায়ী, গতকাল বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে; আজ সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে যা শেষ হবে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের পর আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের শেষে পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মীর পূজা ও আরাধনা করা হয়। পূজা উপলক্ষে গত রাতে হিন্দু নারীরা উপবাস করে ব্রত পালন করেন। আলপনা এঁকে, পঞ্চ আম্রপল্লব, ধান-দূর্বা, তুলসীপাতা ও হরীতকী দিয়ে ঘট বসিয়ে, মিষ্টি ফল-ফলাদি, পান-সুপারি দিয়ে মা লক্ষ্মীকে আবাহন করা হয়। পূজা শেষে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করেন পূজারিরা। মন্দির-মণ্ডপের পাশাপাশি ঘরেও ছিল এ আয়োজন।
পূজা শেষে অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। এ ছাড়া ঘরের আঙিনায় লক্ষ্মী দেবীর পায়ের আলপনা ও মোমবাতি প্রজ্বালনও করা হয়। ভক্তরা সংসারের আয়-উন্নতির জন্য প্রার্থনা করেন। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালী মন্দির, পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘরোয়া পরিবেশে লক্ষ্মীপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী জগৎ পরিক্রমা করেন। তিনি দেখেন, কেউ রাতে জেগে আছেন কি না। কোজাগরী পূর্ণিমা রাতে যিনি জেগে দেবীকে স্বাগত জানিয়েছেন, তাকে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি প্রদান করেন। ত্রিলোকের সব সৌভাগ্য, শ্রী ও ঐশ্বর্যের অধিষ্ঠাত্রী হলেন দেবী লক্ষ্মী।
অন্যদিকে ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাবাস সমাপনীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এই পূর্ণিমা পালনের মাধ্যমে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও গৃহীদের পাপমোচন হয়।



