শান্তিরক্ষায় বিশ্বে অন্যতম প্রধান অংশীদার বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ফাইল ছবি
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম প্রধান অংশীদার দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের সাহসী শান্তিরক্ষীরা। আজ শনিবার ৮১তম জাতিসংঘ দিবস উপলেক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৯৪৮ সাল থেকে প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
জাতিসংঘ দিবসের বার্তায় হুমায়ুন কবির বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে বহুপাক্ষিকতা শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য প্রয়োজন।
জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ ও সংস্থাটির সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের এই সময়ে জাতিসংঘ সনদের প্রাসঙ্গিকতা আরও বেশি করে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।
‘সংলাপ, বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, সার্বভৌম সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার অঙ্গীকারও নতুন করে জোরদার করতে হবে’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ সরকার বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সরকারের নতুন উদ্দীপনার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেছেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিও বাংলাদেশের অঙ্গীকার রয়েছে।
জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব টেকসই উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গসমতা ও মানবিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে আসছে। তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, উন্নয়নশীল দেশ, স্বল্পোন্নত দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা রাষ্ট্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে এসব সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কার জরুরি। বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাটি যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য এ সংস্কার প্রয়োজন।



