গান ও স্মৃতিচারণে সাধক হালিম বয়াতিকে স্মরণ

সংগৃহীত ছবি
লোকসংগীতের সাধনায় কেটেছে জীবন। গানের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন মানুষের জীবনবোধ, দর্শন ও মরমি ভাবনা। বিচার গানের সম্রাট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধক আবদুল হালিম বয়াতি আজ নেই। তবে তার গান ও সংগীতসাধনার উত্তরাধিকার ছড়িয়ে আছে শিষ্য, অনুসারী ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে। সেই উত্তরাধিকার স্মরণ এবং শিল্পীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘হালিম বয়াতি স্মরণোৎসব-২০২৬’।
আবদুল হালিম বয়াতির ৯৭তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে এ আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে শুরু হয়ে গান, আলোচনা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকসংগীতশিল্পীদের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে আয়োজনস্থল।
স্মরণোৎসবে সংগীত পরিবেশন করেন আলেয়া বেগম, ফকির আবুল সরকার, লতা দেওয়ান, রুমা সরকার, মুক্তা সরকার, সৈয়দ আশিকুর রহমান, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বগা তালেব, আকাশ গায়েন, শাহ মোহাম্মদ শিপন, মারুফ মৃন্ময়, খোকন চিশতি, সোহাগ প্রামাণিক, জয়িতা অর্পা, সানজিদা প্রমি, ইমরান হোসাইন, অভিবাঁদন দাস, নবীন কিশোর গোস্বামী, নাজমুল সরকার নিহাত, রহমান জনি, মনিরুজ্জামান খান, মাল সালমান ও মাহাবুব খালাসী। তাদের পরিবেশনায় লোকগানের নানা সুর ও ধারায় স্মরণ করা হয় সাধক হালিম বয়াতিকে।
গানের পাশাপাশি আবদুল হালিম বয়াতির জীবন, সংগীতসাধনা ও সাংস্কৃতিক অবদান নিয়ে আলোচনা করেন আলোকচিত্রী ও গবেষক নাসির আলী মামুন, লেখক ও গবেষক শফিকুর রহমান চৌধুরী, ড. তপন বাগচী এবং ড. সাইমন জাকারিয়া।
আলোচনায় নাসির আলী মামুন বলেছেন, ‘আবদুল হালিম বয়াতির জীবন ও কর্মের অনেক কিছু এখনো অনাবিষ্কৃত। তার পূর্ণাঙ্গ জীবনী প্রকাশের আগে শিল্পীকে কাছ থেকে দেখেছেন, এমন মানুষের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা জরুরি।’
লাল মিয়া বয়াতিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা তার শিষ্য, ভাবশিষ্য, অনুসারী ও পরিবারের সদস্যদের মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, ‘এসব মানুষের স্মৃতিতে হালিম বয়াতির জীবনের অনেক অজানা অধ্যায় উঠে আসতে পারে।’
নাসির আলী মামুন জানান, হালিম বয়াতির পুত্র নিশানে হালিম তার বাবার জীবনী রচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে তাড়াহুড়ো করে তা প্রকাশ না করে আরও দুই-তিন বছর সময় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
২০২৯ সালে হালিম বয়াতির জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তার ভাবশিষ্য, অনুসারী ও সংগীতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একত্র হয়ে তাকে উদ্যাপনের প্রত্যাশাও জানান এই গবেষক। তার আশা, এর মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা গেলে জীবনীটি আরও পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য হবে।
স্মৃতিচারণ পর্বে হালিম বয়াতির সঙ্গে কাটানো সময় এবং তার কাছ থেকে সংগীতশিক্ষার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন দুই শিষ্য লাল মিয়া বয়াতি ও নজরুল বয়াতি। শিল্পীর পুত্র নিশানে হালিমও বাবাকে ঘিরে স্মৃতির কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গবেষক মফিদুল হক।



