গুলশান সোসাইটির আয়োজনে ‘শকুন্তলা’ নৃত্যনাট্য মঞ্চায়ণ

গুলশান সোসাইটির আয়োজনে মঞ্চায়ণ হলো রোমাঞ্চকর এক পৌরাণিক আখ্যান ‘শকুন্তলা’।
প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতের অন্যতম বিশেষ চরিত্র শকুন্তলা। তপোবনে বেড়ে ওঠা এই আশ্রমকন্যার প্রেম, বেদনা-বিধুর ভাগ্য, স্মৃতির-বিস্মৃতি; সব মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর এবং রোমাঞ্চকর এক পৌরাণিক আখ্যান ‘শকুন্তলা’।
গুলশান সোসাইটির আয়োজনে লেক পার্কে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এই আখ্যানের প্রাণবন্ত মঞ্চায়ণ হয়ে গেল ধ্রুপদী এক নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে।
তপোবনে বেড়ে ওঠা আশ্রমকন্যা শকুন্তলার প্রেম, বিচ্ছেদ, বেদনা ও পুনর্মিলনের গল্প নিয়ে নির্মিত এই নৃত্যনাট্য। মহাকবি কালিদাসের বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ অবলম্বনে এর মঞ্চায়ন করা হয়।
নৃত্যদল ভাবনার পরিবেশনায় নৃত্যনাট্যটির নির্দেশনায় ছিলেন সামিনা হোসেন প্রেমা।
মহাভারতের অন্যতম বিশেষ চরিত্র শকুন্তলা রাজর্ষি বিশ্বামিত্র ও স্বর্গীয় অপ্সরা মেনকার কন্যা। তপোবনে বেড়ে ওঠা শকুন্তলার জীবনে আসে রাজা দুষ্মন্তের প্রেম। দুজনের বিয়ে হয়। শকুন্তলা সন্তানসম্ভবাও হন।
তবে দুর্বাসার অভিশাপে রাজা দুষ্মন্ত স্মৃতিভ্রমে সবকিছু ভুলে যান। ভুলে যান শকুন্তলাকেও। একসময় তাকে অস্বীকার করেন তিনি।
এই অভিশাপ তাদের প্রেমের কঠিন পরীক্ষা নেয়। পরে হারিয়ে যাওয়া রাজকীয় আংটি খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের পুনর্মিলনের পথ তৈরি হয়।
মহাকবি কালিদাস এই কাহিনিকে অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকে নতুন মাত্রা দেন। সেই আখ্যানই এবার নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
নৃত্যদল ভাবনা গুলশান লেকের পাড়ে নৃত্যনাট্যটি মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে একটি মোহনীয় পরিবেশ তৈরি করে।
আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, ইট-পাথরের এই শহরে মানুষ যানজট, ময়লা-আবর্জনা ও যানবাহনের হর্নের শব্দের মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
তার ভাষ্য, মানুষের ভেতরে প্রেম-ভালোবাসা ও শিল্পের প্রতি অনুভূতিও রয়েছে। কিন্তু সেসবের জন্য সময় ও উপযুক্ত পরিবেশ সব সময় পাওয়া যায় না।
ব্যারিস্টার ওমর সাদাত উল্লেখ করেন, ‘শকুন্তলা’ নৃত্যনাট্য আয়োজনের মাধ্যমে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শকুন্তলা যেমন হারিয়ে যাওয়া আংটি ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফিরে পেয়েছিলেন, তেমনি এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে হারিয়ে যেতে বসা শিল্প, সংস্কৃতি ও জীবনবোধকে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা তাদের।




