সুকান্তের জন্মশতবর্ষে বিবর্তনের নানা আয়োজন

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ছবি: আগামীর সময়
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে করা হয় এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন, সাহিত্যকর্ম, মানবমুক্তির স্বপ্ন এবং তার কবিতায় শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা নিয়ে আলোচনা হয়। ‘সুকান্ত: মানবমুক্তির এক স্বপ্নবান কবি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু।
আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও সাহিত্যিক অধ্যাপক এম এ আজিজ মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আখতারুজ্জামান এবং কবি হাসান ফকরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি এ এস এম কামাল উদ্দিন।
মফিজুর রহমান লালটু বলেন, ‘সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কবিতায় সাম্য, মানবমুক্তি, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের জীবনবাস্তবতাকে যে শক্তিশালী কণ্ঠে তুলে ধরেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তার সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে মানবিক, শ্রেণিহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ নির্মাণের স্বপ্ন দেখায়।’
আলোচনা শেষে গান, কবিতা, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘হে মহামানব, একবার এসো ফিরে’, ‘দুর্মর’, ‘উদ্যোগ’ ও ‘অবাক পৃথিবী’সহ বিভিন্ন কবিতার সংগীতরূপ পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া ‘দেশলাই কাঠি’ ও ‘দিন বদলের পালা’ কবিতার আবৃত্তি এবং ‘এই বন্ধ্যা মাটির বুক চিরে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
কবিতা, গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক পর্বে সুকান্তের প্রতিবাদী চেতনা, মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন তুলে ধরা হয়।
আয়োজকেরা জানান, জন্মশতবর্ষে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য ও জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তার সাম্য ও মানবমুক্তির চেতনাকে ধারণ করে সাংস্কৃতিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।







