‘আহমদ রফিক তরুণদের নিয়ে চলতে পছন্দ করতেন’

ছবি: আগামীর সময়
ভাষা সংগ্রামী ও গবেষক আহমদ রফিক তরুণদের বেশি ভালোবাসতেন। তিনি তরুণদের নিয়ে চলতে পছন্দ করতেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। তার ভাষ্য, ‘আহমদ রফিক অনেক সম্ভাবনাময় তরুণকে বই উৎসর্গ করেছেন। এই উৎসর্গ তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, তিনি কতটা পছন্দ করতেন তরুণদের।’
আরেক গবেষক মফিদুল হক বলেন, ‘আহমদ রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষকী ঘিরে আজকের আয়োজনটা তরুণেরাই আয়োজন করেছে। এটা একটা বিশেষ দিক।’
ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার স্মরণসভা আয়োজন করে খামখেয়ালী সভা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত’ প্রতিপাদ্যে এ স্মরণসভা হয়।
গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘আহমদ রফিক সবসময় নিজেকে নিজেই অতিক্রম করে গেছেন। পেশায় ডাক্তার হলেও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকে বছরের পর বছর হুলিয়া মাথায় নিয়ে ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছে এবং তিনি ঠিকমতো পরীক্ষাতেও অংশ নিতে পারেননি। স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমকালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’
‘স্বাধীনতার পর বড় ব্যবসায়ী হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আহমদ রফিক সেদিকে পা বাড়াননি, বরং লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চাকেই আঁকড়ে ধরেছেন। বামপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর গভীর যুক্ততা ও কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংযোগ থাকলেও পার্টির সংকীর্ণ আনুষ্ঠানিকতা তাঁকে পীড়িত করেছিল। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে ওঠেননি, তবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।’
আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সাদী বলেন, ১৯৪৭ সালে হরগঙ্গা কলেজে অধ্যয়নকাল থেকেই আহমদ রফিক ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে সরাসরি ভূমিকা রাখেন এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনারের প্রথম নকশা ও নির্মাণ পরিকল্পনায় সক্রিয় অবদান রাখেন। বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টিকারী বহু ঘটনার প্রথম দিকের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এত অবদান থাকা সত্ত্বেও আহমেদ রফিক কখনো নিজের ঢোল নিজে পেটাননি কিংবা আত্মপ্রচারে লিপ্ত হননি। ৫০-এর দশকে সমসাময়িকরা যখন কবিতা লিখছিলেন, তিনি ৫৮ সালেই অনন্য প্রবন্ধগ্রন্থ ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’ প্রকাশ করে চিন্তাশীলতার পরিচয় দেন।’
ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রবীন্দ্রগবেষক হিসেবে ড. আহমেদ রফিকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলন নিয়েও তিনি কাজ করেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই খামখেয়ালী সভার এই আয়োজন।’
আহমদ রফিকের লেখা কবিতা এবং রবীন্দ্রনাথের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যেপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্প মঞ্জুয়ারা রশিদ।
প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীর স্মরণাঞ্জলিতে খামখেয়ালী সভা চারটি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। আহমদ রফিক সংগ্রহ-খামখেয়ালী সভার রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে তাঁর রচনা সংগ্রহ ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, আহমদ রফিক স্মারক বক্তৃতা, ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা- ছয় মাস মেয়াদী কোর্সটি এই নভেম্বরেই শুরু হচ্ছে। বর্তমানে কোর্সটির জন্য সদস্য আহ্ববান চলছে। অপর কর্মসূচিটি হলো, রবীন্দ্র গবেষকদের জন্য আহমদ রফিক গবেষণা বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে খামখেয়ালী সভা।
সভাপতির বক্তব্যে স্মরণাঞ্জলির সভাপতি চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, ‘আহমদ রফিকের স্মৃতি রক্ষা ও চর্চায় যে পরামর্শগুলো এসেছে সেগুলো নিয়ে কাজ করবে খামখেয়ালী সভা। আর যে কর্মসূচীগুলো ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। সবার সহযোগিতায় আমরা সেগুলো পূরণ করব।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাবেক উপমহাপরিচালক ফরিদুর রহমানসহ অনেকে।



