আলোকচিত্রে ‘নদী ও পাখি’, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বার্তা

নদী, পাখি, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর উদ্যোগে ‘নদী ও পাখি’ বিষয়ক চার দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। আজ শনিবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়।
প্রদর্শনীতে আবির আবদুল্লাহর নদী ও প্রকৃতি এবং আনসার উদ্দিন খান পাঠানের পাখি ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক আলোকচিত্রের মাধ্যমে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, নদী, পাখি ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব। ‘নদী ও পাখি’ প্রদর্শনীর ছবিগুলো আমাদের সেই প্রকৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যার সঙ্গে আমাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে। শুধু ছবি দেখে মুগ্ধ হলে হবে না; নদী দখল, দূষণ ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। নিজেদের ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই এখনই প্রকৃতি রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পাখিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, ছবি তোলা আর ভালোবাসার মধ্যে গভীর সম্পর্ক আছে। যে নদীর ছবি তোলে, সে ছবি তুলতে তুলতেই নদীর জীবনকে আরও গভীরভাবে জানতে শেখে; পাখির ক্ষেত্রেও একইভাবে ভালোবাসা ও জানার চর্চা বাড়ে। এই প্রদর্শনী তাই শুধু ছবি উপভোগের নয়, প্রকৃতি সংরক্ষণের কথাটিও মনে রাখার সুযোগ তৈরি করে।
আলোকচিত্রী আবির আবদুল্লাহ বলেন, ক্যামেরা আমার কাছে শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, নদী ও প্রকৃতির সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকার একটি মাধ্যম। নদীর সৌন্দর্যের পাশাপাশি নদীভাঙন, বন্যা ও মানুষের জীবনের বাস্তবতাও ছবিতে তুলে ধরে আমি নদী ও প্রকৃতি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনতে চাই।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, এই প্রদর্শনীর প্রতিটি ছবির একটি করে গল্প আছে, আর সেই গল্পগুলো আমাদের হৃদয় ও মননে নিতে হবে। নদী ও পাখি রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়—প্রতিটি নাগরিককে এখনই সচেতন হয়ে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রকৃতি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকি বলেন, ছবি তোলা শুধু ক্যামেরা দিয়ে একটি দৃশ্য ধারণ করা নয়; এর সঙ্গে মানুষের প্রতি সম্মান, ছবির মৌলিকত্ব এবং দায়িত্বশীলতার বিষয়ও জড়িত। আমাদের ফটোগ্রাফি চর্চায় আরও পেশাদারিত্ব আনা দরকার এবং যারা এই ক্ষেত্রে কাজ করছেন, তাদের আরও বেশি কাজ ও গবেষণা করা প্রয়োজন।
বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আনসার উদ্দিন খান পাঠান বলেন, নদী, জলাভূমি ও পাখি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জলাভূমি ও নদী সুস্থ থাকলে পাখির আবাসস্থল ও খাবারের উৎসও সুরক্ষিত থাকে। তাই পাখি রক্ষা করতে হলে একই সঙ্গে নদী, জলাভূমি ও তাদের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। পাখি ভালো থাকা আমাদের নদী-জলাভূমি ও সামগ্রিক প্রকৃতি ভালো থাকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, এই প্রদর্শনীর লক্ষ্য শুধু পাখির সৌন্দর্য দেখানো নয়, প্রকৃতির প্রতি মানুষের মায়া ও ভালোবাসা জাগানো। নদী, জলাভূমি ও পাখির আবাসস্থল রক্ষায় এখনই যার যার অবস্থান থেকে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।
ধরার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদী ও পাখির সৌন্দর্যের ছবি তুলে ধরার পাশাপাশি নদী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বাস্তব চিত্রও সামনে আনতে হবে। নদী দখল, দূষণ ও পরিবেশবিনাশের ঘটনাগুলো নিয়মিত নথিবদ্ধ করে মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারলেই জনসচেতনতা বাড়বে এবং নদী রক্ষার উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।
প্রদর্শনীটি ৩ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



