মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমামকে স্মরণ

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম, নারী জাগরণ ও মানবিক মূল্যবোধের ইতিহাসে কবি বেগম সুফিয়া কামাল এবং শহীদজননী জাহানারা ইমামের অবদান অনন্য। একদিকে নারী অধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাহসী কণ্ঠস্বর সুফিয়া কামাল। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক জাহানারা ইমাম। এই দুই মহীয়সীর জীবন ও কর্মকে স্মরণ করে শুক্রবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের জীবন, সংগ্রাম, আদর্শ ও অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়। কাব্য, সংগীত, নৃত্য ও জীবনালেখ্য কথনের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় বিশেষ স্মরণালেখ্য ‘তাদের সংগ্রামের বীরগাথা’। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই মহীয়সীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’, ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ এবং গণসংগীত ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’। এ ছাড়া তাদের রচনা থেকে পাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম, নারীর জাগরণ এবং মানবিক সমাজ নির্মাণে তাঁদের অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জাদুঘরের ট্রাস্টি সারা যাকের বললেন, সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন এবং মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গঠনে তাদের অবদান অনন্য। তাদের জীবন ও আদর্শ বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস।
অনুষ্ঠানে সুফিয়া কামালের রচনা থেকে পাঠ করেন সানজিদা সোহেলী এবং জাহানারা ইমামের রচনা থেকে পাঠ করেন সুপ্রভা সেবন্তী। আবৃত্তি করেন তাপস হাওলাদার ও ইমরুন নাহার ইমু। সংগীত পরিবেশন করেন মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা, পূরবী দে সেমন্তী, অর্ণব বড়ুয়া ও মইনুর রহমান খান। নৃত্য পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা।






