দুই গুণী পেলেন নয়নজুলি সাহিত্য পদক

ছবি: আগামীর সময়
স্থানীয় ইতিহাসচর্চা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘নয়নজুলি ইজ্জত আলী খান-সুফিয়া বেগম সাহিত্য পদক ২০২৬’ পেয়েছেন লেখক-গবেষক আলী আহাম্মদ খান আইয়োব ও মফিজ ইমাম মিলন।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলামটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে ক্রেস্ট, চেক ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন প্রকৌশলী শাহজাহান গাজী। সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক আন্দালিব রাশদী। সঞ্চালনা করেন ফাহমিদা মাহবুব খান তন্বী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী এলাহী মাসুদের কণ্ঠে লোকসংগীত পরিবেশিত হয়। স্বাগত বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আলী খান সাহিত্য পদকের পরিচিতি এবং ইজ্জত আলী খান ও সুফিয়া বেগমের জীবন ও অবদান তুলে ধরেন। এ সময় ফাহমিদা মাহবুব খান তন্বী ‘আম্মা’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন। পরে দুই পদকপ্রাপকের সাহিত্যকর্ম ও জীবন নিয়ে নির্মিত দুটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণ করে আলী আহাম্মদ খান আইয়োব স্থানীয় ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থানীয় ইতিহাসের সমন্বয়েই জাতীয় ও আঞ্চলিক ইতিহাসের নানা দিক গড়ে ওঠে। নিজের বেড়ে ওঠার অঞ্চল নেত্রকোনার ইতিহাস ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
মফিজ ইমাম মিলন তার বক্তব্যে স্বাধীনতার পরের সময়ের একটি কঠিন অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেন। এ ঘটনা তাকে জীবনে ভালো কাজ করার সংকল্পে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে জানান তিনি। পরে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নিয়ে নয়, সামনে যে ভালো কাজ এসেছে, সেটিই করার চেষ্টা করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে আন্দালিব রাশদী আলী আহাম্মদ খান আইয়োবের ‘নেত্রকোণার ইতিহাস’ গ্রন্থের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলের ইতিহাসের বই পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার কাছে গ্রন্থটি আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ বলে মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে নেত্রকোনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও বইটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মফিজ ইমাম মিলনের দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন আন্দালিব রাশদী। মানুষের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা নিয়ে তার স্মৃতিকথা লেখার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।



