‘সাম্যবাদী’ কবিতার শতবর্ষ
নজরুল আজ বেঁচে থাকলে কী সমালোচনায় পড়তেন সে প্রশ্ন থেকে যায়: আনু মুহাম্মদ

সাম্যবাদী কবিতার শর্তবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কবিতা রচনার শতবর্ষ পরও সমাজে বৈষম্য দূর হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সর্বজনকথার সম্পাদক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘নজরুল আজ বেঁচে থাকলে কী ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তেন, এমনকি বেঁচে থাকতে পারতেন কি না, কিংবা মৃত্যুর পর তার দাফন হতো কি না— তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুল চর্চা কেন্দ্র বাঁশরী আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্যবাদী কবিতার শর্তবর্ষ উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।
১৯২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘সাম্যবাদী’ কবিতাটি রচনা করেন কাজী নজরুল ইসলাম। আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘শত বছর আগে ‘সাম্যবাদী’ লিখেছেন নজরুল। এখনো সেই কবিতা প্রাসঙ্গিক। কারণ সমাজে এখনো সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা পায়নি। নজরুলের সাহিত্য ও ভাবনার প্রভাব আমরা সমাজে দেখতে পাচ্ছি না, সমাজে প্রবল বৈষম্য দেখতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।’
নজরুলের সাম্যবাদী দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নজরুল সাম্যবাদী কবিতা লিখেছেন, আবার হামদ, নাত ও গজল রচনা করেছেন। এটি সম্ভব হয়েছে তার সাম্যবাদী দর্শন ও মানুষকে বড় করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। বর্তমান পৃথিবীতে কে হিন্দু, কে মুসলিম— এসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু মানুষ নিয়ে আলোচনা নেই। সাম্যবাদী কবিতার শত বছর পরও এ ধরনের আলোচনা বেদনার।’
তার প্রতিবাদী ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘নজরুল এমন একজন লেখক, যার লেখা বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। কারাগারে গিয়েও তিনি লিখেছেন। আমাদের সব প্রতিবাদ ও সংগ্রামে নজরুল রয়েছেন। তাকে ছাড়া সংগ্রাম বা আন্দোলন হয় না। কিন্তু নজরুলকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা হয় না। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ তাকে সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করতে বাধা দেয়।’
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ মওলা বলেন, ‘আমরা যে বৈষম্যের মধ্যে বাস করছি, সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে নজরুল একশ বছর আগেই দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন ‘সাম্যবাদী’ কবিতা। অথচ আমরা নজরুলকে খণ্ডিত করে ফেলেছি। তার সামগ্রিক চিন্তার মধ্যে সাম্যবাদী দর্শন রয়েছে। তিনি ছিলেন বিশ শতকের সমাজ বিনির্মাণের চিন্তক। একটি মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।’
‘‘নবযুগ’ পত্রিকা সম্পাদনা ও ‘যুগবাণী’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, নজরুল তার সময়কে বদলাতে চেয়েছিলেন। তিনি মানবিক যুগের স্বপ্ন দেখেছেন, মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। এ কারণেই দেশ, সমাজ ও বিশ্ব নিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন’, যোগ করেন ড. আহমেদ মওলা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাঁশরীর সভাপতি ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান। তার ভাষ্য, নজরুল চর্চা করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবু তারা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন নজরুলের কবরে ফুল দেওয়া হয়। শুধু বছরে একবার নয়, প্রতিদিনই তারা নজরুলের চেতনা লালন করেন।অনুষ্ঠানে বাঁশরীর শিল্পীরা ‘জয় হোক’ গান পরিবেশন করেন। এ ছাড়া ‘ঈশ্বর’, ‘নারী’, ‘কুলি মজুর’, ‘মানুষ’ ও ‘পাপ’সহ ১১টি কবিতা আবৃত্তি করা হয়। পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী টিটু মুন্সী।




