বর্ষার আবাহনে লক্ষ্যাপারের ‘বর্ষা অধিবেশন’

শ্রাবণের মেঘ-বৃষ্টি, প্রকৃতি ও শাস্ত্রীয় সংগীতের মেলবন্ধনে অনুষ্ঠিত হলো লক্ষ্যাপারের ‘বর্ষা অধিবেশন’। গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের আলী আহমদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনের পঞ্চম তলার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে এ নান্দনিক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল জলযোগ ও আড্ডা। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় মূল পরিবেশনা। বর্ষার রাগের সঙ্গে শ্রোতাদের পরিচয় করিয়ে দিতে পরিবেশিত হয় মিঞা কি মলহার, মেঘ, দেশমলহার, নাটমলহার, জয়জয়ন্তী ও রামদাসী মলহার প্রভৃতি রাগ। নবীন শিল্পীদের পরিবেশনায় এসব রাগের রূপের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাগে রচিত নজরুলের গান বর্ষার প্রকৃতি ও অনুভূতিকে দেয় ভিন্ন এক নান্দনিক মাত্রা।
লক্ষ্যাপার পরম্পরার শিক্ষার্থীদের সমবেত পরিবেশনায় ছিল বর্ষা অঙ্গের রাগ জয়জয়ন্তী ও মিঞা কি মলহারের তারানা। একই সঙ্গে এ দুটি রাগের ওপর রচিত দুটি নজরুলসংগীতও পরিবেশন করেন তারা। এ ছাড়া নবীন কণ্ঠে এককভাবে নজরুলের বর্ষার গান এবং গানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাগের পরিচয় মিলনায়তনে তৈরি করে বর্ষার এক মনোমুগ্ধকর আবহ।
নারায়ণগঞ্জের নবীন কণ্ঠের অপরাজিতা রায় ও উষ্ণব সাহার পরিবেশনা ছিল হৃদয়গ্রাহী। এ ছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন লক্ষ্যাপার পরম্পরার সংগীত প্রশিক্ষক ইকবাল সুমন এবং ছায়ানটের নজরুলসংগীত বিভাগের শিক্ষক ও শিল্পী বিজন মিস্ত্রি।
সবশেষে লক্ষ্যাপার পরম্পরার কুলগুরু এবং ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের শাস্ত্রীয় সংগীত বিভাগের শিক্ষক সংগীতাচার্য রেজোয়ান আলীর কণ্ঠে রাগ মিঞা কি মলহার যেন দর্শক-শ্রোতার মনের মধ্যে শ্রাবণের ধারা ঝরিয়ে দেয়।
শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্য ধারণ করে প্রকৃতি, ঋতু ও মানুষের অনুভূতিকে সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরার এ আয়োজন দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে প্রশংসা ও মুগ্ধতা সৃষ্টি করে। লক্ষ্যাপারের ‘বর্ষা অধিবেশন’ তাই শ্রাবণের এক সুরেলা সন্ধ্যায় শাস্ত্রীয় সংগীত, প্রকৃতি ও মানুষের অনুভূতির এক অপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়।




