কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব শুরু

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মাঠে শুক্রবার শুরু হয়েছে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’। মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা ও আত্মঅন্বেষণের দর্শন সংগীতের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে এ আয়োজন।
আয়োজক সংস্থা ‘লালন বিশ্বসংঘ’ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের আট বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব। ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে উৎসব চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। ঢাকা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বসবে ভাবসংগীতের আসর।
রাজধানীর উদ্বোধনী আয়োজনের উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য ও লালন বিশ্বসংঘের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী আবদেল মাননান।
সমবেত কণ্ঠে কবীর ও লালনের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্ব। পরে কবীরপন্থী, রবিদাসপন্থী ও নানকপন্থী শিল্পীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ এবং কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা অংশ নেন।
আবদেল মাননান বলেন, ‘কবীর ও লালনের বাণীর ভাবগত মিল খুঁজে তার তুলনামূলক অধ্যয়ন, তাও সুরের ভেতর দিয়ে। তারা দুজনই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ। এ সময় উপমহাদেশে তাদের নিয়ে মিলিত চর্চা শুরু করা জরুরি। কবীর ও লালনের ভাবধারায় মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, সম্প্রীতি ও আত্মঅন্বেষণের যে দর্শন রয়েছে, তা গান, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরাই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য।'
উৎসবের বিভাগীয় আয়োজন শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর বরিশাল থেকে। সেদিন বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠান হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এবং ২৫ সেপ্টেম্বর শেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ময়মনসিংহ বিভাগের আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২ অক্টোবর রাজশাহী, ৪ অক্টোবর রংপুর, ২৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম এবং ৩০ অক্টোবর সিলেট বিভাগের আয়োজন হবে। সিলেটের শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে শ্রীমঙ্গলের জেলা পরিষদ মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে।



