‘নাটকে আশা থাকতে হয়’ অনুস্বর সংলাপে ফেরদৌসী মজুমদার

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার। তখন সন্তান ত্রপা মজুমদার তখন ছিলেন ছোট। সন্তান, সংসার আর থিয়েটারকে সময় দেওয়ার জন্যই সে সময় সত্যজিতের সিনেমায় অভিনয় করেননি বলে জানালেন এই কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী।
নাট্যদল অনুস্বরের সপ্তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার বিকালে আয়োজন করা হয় ‘অনুস্বর সংলাপ’ এর চতুর্থ পর্ব। এতে মুখোমুখি হন ফেরদৌসী মজুমদার। অনুস্বরের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বারীর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে তিনি নাটক, অভিনয়, পরিবার ও কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
কেন সত্যজিতের সিনেমা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন? প্রশ্নে ফেরদৌসী মজুমদার বললেন, ‘সেই সিনেমা ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ ছিল সন্তান, সংসার আর থিয়েটার। সত্যজিৎ রায় আমাকে সিনেমায় ডেকেছিলেন, আমি করতে পারিনি। আমার কাছে আসলে সংসার, সন্তান অনেক বড়। তখন আমার সন্তান ছোট ছিল। থিয়েটার আর সংসারে সময় দিচ্ছিলাম। তখন সূর্যদীঘল বাড়ি সিনেমায়ও অভিনয় করিনি। সেখানে জয়তুন চরিত্রটা আমাকে করতে বলা হয়েছিল, আমি তখন ডলি আনোয়ারকে নেওয়ার জন্য সাজেস্ট করেছিলাম।’
তবে এখন এসে সেই সিনেমায় অভিনয় করতে না পারার জন্য আক্ষেপ হয় বলেও জানান। তবে সংসার, সন্তানের দিক থেকে ভাবলে সেই আফসোস আর থাকে না বলেও জানান।
তিনি বললেন, ‘তখন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ঠিকই ছিল।’ সাইফ সুমনের সঞ্চালনায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। ফেরদৌসী মজুমদারের জীবন বৃত্তান্ত পাঠ করেন ফরিদা লিমা এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রশান্ত হালদার। এরপর দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যপ্তি চলে এই সংলাপ।
ফেরদৌসী মজুমদার জানালেন, নাটকে আশা থাকা উচিত। শুধু হতাশা থাকলে চলে না। নাট্যকার সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বললেন, ‘আমাদের এখন লেখক নেই। গল্পের বাঁধন থাকতে হয়।’
কোনো কিছু প্রাপ্তির জায়গা থেকে থিয়েটার করা উচিত নয় উল্লেখ করেন ফেরদৌসী মজুমদার। তিনি বললেন, ‘তারকা হবো, খ্যাতি হবে-এসব থেকে নয়। থিয়েটার করতে হয় ভালোবাসা থেকে।’
আলাপের ফাঁকে কোকিলারা, মেরাজ ফকিরের মা, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকের কিছু অংশের সংলাপও পাঠ করে শোনান। সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বললেন, ‘সিনেমায় তো নায়ক, নায়িকার জন্য আলাদা চেয়ার থাকত। সিনেমায় অভিনয়ও বেশ উচ্চকিত। কিন্তু শুটিং সেটে আমি ফরিদীকে দেখেছি, আমাকে দেখলে দাঁড়িয়ে যেতো। সেটের সবাইকে বলে দিত, আমি গেলে যেন তার চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়।’ ‘সংশপ্তক’ নাটকে হুমায়ূন ফরিদীর সঙ্গে অভিনয় করার স্মৃতিও তিনি তুলে ধরেন। আলাপে উঠে আসে ‘বরফগলা নদী’র শুটিংয়ে সুবর্ণার সঙ্গে দেখা হওয়ার স্মৃতিও।
নিজের প্রিয় নাটক প্রসঙ্গে ফেরদৌসী মজুমদার বললেন, ‘আমি মনে করি কোকিলারা আমার বেশি পছন্দের নাটক। এই নাটকে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি।’ নাটকের পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানালেন, নাটকে পান্ডুলিপি ভীষণ জোরদার হতে হয়। আমার সৌভাগ্য সৈয়দ শামসুল হক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আবদুল্লাহ আল-মামুনের নাটকে অভিনয় করেছি।
কেন থিয়েটার করেন, প্রশ্নে ফেরদৌসী মজুমদার বললেন, ‘মঞ্চে প্রত্যক্ষভাবে ফিডব্যাক পাওয়া যায়। আমি যখন অভিনয় করি, যারা দেখেন তারা যখন ফিডব্যাক জানান, এটা ভালো লাগে। আর আমি ছোটবেলা থেকে নকল করতাম। বাবাকেও নকল করতাম।’ থিয়েটার সম্পর্কে নিজের মূল্যায়নে তিনি সংক্ষেপে জানালেন, থিয়েটার একটা সামগ্রিক ব্যাপার।





