শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ
দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

ছবি: রয়টার্স
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৪ মে তাদেরে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে হেফাজতের মামলায় আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, ‘হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর “সমীকরণ” শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল একাত্তর টেলিভিশনে। ওই প্রতিবেদনে এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় যে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি শাপলা চত্বরে।’
‘এ মামলার তদন্তে আমরা কিছু নতুন তথ্য পেয়েছি। এর মধ্যে “সমীকরণ” নামের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করেছেন একাত্তর টেলিভিশনের ফারজানা রুপা। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির একটি সাক্ষাৎকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুরও সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি আমরা। প্রতিবেদনটি প্রচার করা হয়েছিল ঘটনার পরপরই। যেখানে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ঘটল আর সেই ঘটনা একেবারেই ভিন্ন খাতে নিতে কিছু বিতর্কিত মানুষের বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন ফারজানা রুপা’- বলছিলেন তিনি।
এর আগে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর বলেছিলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ নিয়ে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ওইদিন শুধু ঢাকাতেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ৩২ জনের। তাদের পরিচয় আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। এর মধ্যে কয়েকজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এ ছাড়া পরদিন তথা ৬ মে নারায়ণগঞ্জে নিহত হওয়া ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, কুমিল্লায় ১ জনসহ ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।




