রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, প্রথম দিনেই সব সাক্ষ্য শেষ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের প্রথম দিনেই ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেন।
সাক্ষীরা হলেন- শিশুর বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন, কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, এসআই ইকবাল হোসেন, চিকিৎসক নাসাদ জাবিন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান।
এদিন দুই আসামিকে বিচারিক আদালতে তোলা হয়। দিনের প্রথম ধাপে ১০ টা ৩৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠেন। সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বেলা ১টা পর্যন্ত মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরে আধা ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বেলা দেড়টায় ফের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু। পরে ১ ঘন্টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসক ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ আরও ছয়জনের সাক্ষ্য নেন বিচারক।
সব সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ। এসময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু উপস্থিত ছিলেন।
এতে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে রামিসার দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করে তার মা। সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে এসে ভেতরে প্রবেশ করেন।
সোহেল ও স্বপ্নার শোয়ার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিল। এ ঘটনার দিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলার প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আদেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
এতে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগ পত্রটি গ্রহণটি করে বিচারে প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি বদলির আদেশ দেন। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ পত্র আমলে নিয়ে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন। পরে সোমবার আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।






