শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের তদন্ত শেষ, প্রধান আসামি হাসিনা
- ২১ জুলাই ফরমাল চার্জ

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হওয়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বর্তমানে তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘মামলার প্রধান আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা।’
এ ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার, ডিবি কর্মকর্তা হারুন, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে মামলায় আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলার মোট আসামি ২৮ থেকে ৩০ জন।
আমিনুল ইসলাম বললেন, ‘দীর্ঘসময় ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিওচিত্র, আলোকচিত্র, নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে তদন্ত শেষ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এখন শুধু আইনি ও কারিগরি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষায় আছেন তারা।’
‘ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি শেষ হয়ে আগামী ২১ জুলাই বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেলে প্রসিকিউশন দ্রুত আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) প্রস্তুত করে ওইদিনই তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবে।’—জানালেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, মামলায় সম্ভাব্য আসামির সংখ্যা ২৮ থেকে ৩০ জন হতে পারে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্রে অভিযোগ আনার প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এই ৫৮ জনের পরিচয় তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্তে এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে যে, ২০১৩ সালের ৫ মে (দিন ও রাতে) শুধু শাপলা চত্বরে বা ঢাকার মধ্যে ৩২ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ৩২ জনের পরিচয় তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। অনেকের হয়নি। তাদের কবর, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তদন্ত সংস্থার কথাবার্তাসহ তদন্তে এই ৩২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বললেন, পরদিন (২০১৩ সালের ৬ মে) নারায়ণগঞ্জে ২০ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ২০ জনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। একই দিন চট্টগ্রামে পাঁচজন নিহত হয়। আর কুমিল্লায় নিহত হয় একজন।




