৮ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাহসিফের বন্ধু দীপ ফের রিমান্ডে

গত ৩১ অক্টোবর আদালত প্রাঙ্গণে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। ছবি: আগামীর সময়
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যামামলায় তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ চার দিন ছিলেন পুলিশ রিমান্ডে। জিজ্ঞাসাবাদে সব প্রশ্নের উত্তর পাননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তাই আরও তিন দিন তাকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
চার দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আজ মঙ্গলবার আটটি কারণ দেখিয়ে আসামিকে আরও সাত দিনের জন্য রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে।
অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করেন দীপের পক্ষে তার আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মো. হাসান শাহাদাত তিন দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।
দুপুরে আদেশের পর পুলিশ পাহারায় দীপকে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তার আগে সকালে তাকে আদালতে আনা হয়েছিল। কাঠগড়ায় থাকার সময়ও দীপের মাথায় ছিল হেলমেট, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হাতে ছিল কড়া।
সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকেই ঢাকার উত্তরায় তার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। পরদিন তুরাগ নদে তার লাশ পাওয়া গিয়েছিল।
এরপর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যামামলা করার পর দীপকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
এরপর গ্রেপ্তার করা হয় জেরিকা তাসনিম দিশা নামে এক তরুণীকে। ওই রাতে তাহসিফের সঙ্গে দীপ ও দিশাকে উত্তরার একটি বারে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল এক সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে।
দীপকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে দিশাকেও রিমান্ডে নেয় পুলিশ। দীপের আগের রিমান্ড শেষ হওয়ায় এখন তাকে ফের রিমান্ডে নেওয়া হলো।
নতুন করে রিমান্ডের আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা যে আট কারণ দেখিয়েছিলেন, সেগুলো হলো- সংগৃহীত বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামি দীপের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করা; ভিকটিমের সঙ্গে আসামি নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালীন কিছু সময়ের জন্য অন্যত্র সরে গিয়ে ১৫/২০ মিনিট কোথায় যোগাযোগ করেছেন, তা জানা; ভিকটিম ও আসামিসহ অন্যদের ব্যবহৃত প্রাসঙ্গিক মোবাইলের সিডিআর সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা; মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন;
অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও শনাক্ত; আলামত উদ্ধার; হত্যার কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ; হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন বলেন, তাহসিফ ও আসামি দীপ একটি হোটেলে মদ ও সিগারেট সেবন করেছিলেন। তাহসিফের মায়ের কাছে একটি অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামি শনাক্তে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত কি না, এটা উদঘাটনও প্রয়োজন।
বিমানবাহিনীতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তাহসিফের নাম আলোচনায় এসেছিল ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যে ভিডিওটি ছড়িয়েছিল, তা প্রকাশের ক্ষেত্রে তাহসিফের ভূমিকা আলোচনায় উঠেছিল তখন।
এরপর ওই বছরের আগস্টেই বিমানবাহিনীর চাকরি হারান ২৭ বছর বয়সী এই যুবক। ওই ভিডিওর কারণে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বলে তাহসিফ মনে করলেও এর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছিলেন তিনি।
পরে তিনি কিছুদিন নেত্র নিউজ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে কাজ করেন। সর্বশেষ ভার্গ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন।
বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর গত ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে নানা আলোচনার পর গত শুক্রবার এনায়েতুল করিম হত্যা মামলা করেন।
তার এক দিন পরই দীপকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত রবিবার গ্রেপ্তার করা হয় দিশাকে।



