আবু সাঈদ হত্যা
মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন পাওয়া পাঁচজনই পুলিশ সদস্য

আসামিদের নেওয়া হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া পাঁচজনই পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় গ্রেপ্তার রয়েছেন।
একই মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন আরপিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরেক ধারায় তাদের দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড।
পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তারা হলেন— আরপিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন।
বড় কর্মকর্তাদের এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ
রায়ের পর ‘বড় কর্মকর্তাদের রেখে ছোটদের সাজা দেওয়া হয়েছে’ বলে অভিযোগ আবু সাঈদের বাবা-মায়ের। আজ দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর এলাকার জাফর পাড়া গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।
‘মাত্র দুজনকে’ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মকবুল হোসেন। ‘অনেক অপরাধী পালিয়ে গেছে। বড় অপরাধীদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে আমার দাবি, যারা পালিয়ে গেছে, তাদের ধরে এনে ফাঁসি দিতে হবে’, বলছিলেন তিনি।
বক্তব্যে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন আবু সাঈদের বাবা। পাশাপাশি আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম মন্তব্য করেন, ‘আরও বেশি আসামির ফাঁসি দিলে খুশি হতাম। এ রায়ে আমরা খুশি নই। আমার ছেলে অনেক অত্যাচারের শিকার।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শুরুর দিকে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। ফুঁসে ওঠে গোটা দেশ। আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন আবু সাঈদ। ঘুরে যায় আন্দোলনের মোড়।
ঘটনার পর আবু সাঈদের মৃত্যুর দায় চাপানোর চেষ্টা হয় আন্দোলনকারীদের ওপরই। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে পুলিশ দাবি করে, পুলিশের গুলিতে নিহত হয়নি আবু সাঈদ। উল্লেখ করা হয়, ‘বিভিন্ন দিক থেকে আন্দোলনকারীদের ছোড়া গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে একজন শিক্ষার্থীকে পড়ে যেতে দেখা যায়’।
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় হয় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। গত বছরের ২৪ জুন সেই মামলায় ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় ৬ আগস্ট। বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট। ১৪ জানুয়ারি শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণ, আর ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক। এরপর আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হলো।















