প্রতারণা মামলায় ডিবি কর্মকর্তা নাজমুলসহ চারজনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ধানমন্ডি থানার সাবেক ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমি।
এদিন মামলার বাদী মজুমদার আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেন। এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আফজাল হোসেন মৃধা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আগামী ১৯ আগস্ট আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০২৪ সালে ভুক্তভোগীর ভাই মজুমদার আরিফুর রহমান বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ গত ২১ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইদুর রহমান হাবিবের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং এলসির মাধ্যমে আতিকুর রহমান তার এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও এএসআর সোয়েটার লিমিটেডের আধুনিকায়নের জন্য মালিকানাধীন রার্নি টাইগার্স (বিডি) লিমিটেডের মাধ্যমে চীন থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করেন।
পরে আতিকুর রহমান সাইদুর রহমান হাবিবের পাওনা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইদুর রহমান একাধিকবার কারখানার যন্ত্রপাতি পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে বন্ধ করে দেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে কিছু অর্থ পরিশোধ করে কারখানা পুনরায় চালু করেন আতিকুর রহমান। তবে পরবর্তীতে তিনি বাকি অর্থ পরিশোধ না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাইদুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন।
২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ১৪ জানুয়ারি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশি রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ১৫ জানুয়ারি রাতে মামলা নিষ্পত্তির প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে থাকা হিসাবে ব্যবহারের জন্য ৭৬টি চেকে বাহক হিসেবে সাইদুর রহমান হাবিবের নাম লিখে আতিকুর রহমানের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
পরদিন ১৬ জানুয়ারি সাইদুর রহমান হাবিব আদালত থেকে আতিকুর রহমানকে জামিনে মুক্ত করে নিজের জিম্মায় নিয়ে আসেন। পরে ৭৬টি চেকের মধ্যে চারটি ফেরত দিয়ে আরও চারটি চেক গ্রহণ করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তদন্তে বলা হয়েছে, সাইদুর রহমান হাবিব ও মোকাররম হোসেন জিমির পরামর্শে জামিনের শর্ত হিসেবে আতিকুর রহমানের জামিন আবেদনে বাদী ও বিবাদীর মধ্যে আপস-মীমাংসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
সিআইডির তদন্তে মো. নাজমুল হক, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ব





