ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী ২ আইনজীবী

ফাইল ছবি
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ বলে মন্তব্য করার ঘটনায় সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন সুপ্রিম কোটের আওয়ামীপন্থী দুই আইনজীবী।
তারা হলেন— হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান তারা।
জুলাই আন্দোলন দমনে হত্যা-নিপীড়নের নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন।
প্রসিকিউটর গাজী তামীমের ভাষ্য, এর পরপরই হাসানুজ্জামান তুষার রায়ের সংবাদ প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ, মিথ্যা-বানোয়াট, ভিত্তিহীন রায়ের তীব্র নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই এবং ঘৃণ্যভাবে এই রায় প্রত্যাখ্যান করি। রাজপথেই হবে সবকিছুর ফয়সালা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’
ওই পোস্টে সেদিন বিকালে আইনজীবী হাসান চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ফরমায়েশি রায় প্রত্যাখ্যান করছি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’
বিষয়টি নিয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হলে আদালত দুই আইনজীবীকে তলব করেন। তাদের আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে তাদের ফেসবুকে লেখা বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
সেদিন প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারী ওই দুইজন আইনজীবী হওয়ায় তাদের মন্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালত নিয়ে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও একজন বিচারক অসুস্থ থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। সেদিনও অভিযুক্ত দুই আইনজীবী— হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরী তাদের বিরুদ্ধে আনা আদালত অবমাননার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন। ওই সময় তাদের সঙ্গে আওয়ামীপন্থী আরও বেশ কয়েকজন আইনজীবী আসলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সেদিন তাদের সবাইকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এদিকে আওয়ামীপন্থী দুই আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলা ঘিরে সোমবার ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল-২ এর সব মামলার শুনানি বাতিলের পাশাপাশি আইনজীবীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।



