গৃহকর্ত্রী আফরোজা হত্যার দায়ে গাড়িচালক হৃদয়ের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানী মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার দায়ে তার গাড়িচালক মো. হৃদয় বেপারীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশে দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরে জহিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
এদিন কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বিচারকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বললেন, আমাকে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আমি এই রায় মানি না। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার নিজ ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দিন ১৪ মার্চ নিহতের ভাই মো. আল মজিদ বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপপরিদর্শক মো. রিপন উদ্দিন আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।
তদন্তে উঠে আসে, আসামী হৃদয় অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হেরে যায়। জুয়ার দেনা মেটাতে এবং অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন বিকেলে ভিকটিমকে একা পেয়ে নিজ হাতে চাকুর সাহায্যে নৃসংশভাবে গলা কেটে হত্যা করেন। ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।






