ড. ইউনূসের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবির বৈধতা নিয়ে রিট, ফের হাইকোর্টে শুনানি

ড. ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকার আয়কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি রিট আবেদন ফের হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। আগামীকাল বুধবার থেকে এ দুটি রিটের শুনানি হবে।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রফেসর ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বললেন, ‘হাসিনা সরকারের পতনের আগের দিন ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট খারিজ করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই রিটে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য আরোপিত ৬৬৬ কোটি টাকার আয়করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।’
তার ভাষ্য, পরে ওই রায় প্রত্যাহার করা হয়। মামলাগুলো প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলে নতুন একটি বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী বুধবার থেকে আবারও শুনানি শুরু হবে।
ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বললেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পর ড. ইউনূস ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ করিয়ে নিয়েছেন বা মামলাগুলো প্রত্যাহার করিয়েছেন—এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মামলাগুলো এখনো হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি জানালেন, রায়টি পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেখানে উল্লেখ করা হয় যে হাইকোর্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতি অতীতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে রায়টি প্রত্যাহার করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঢাকার কর অঞ্চল-১৪ ২০১৭ সালের ৭ ও ১১ সেপ্টেম্বর পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবি করে। শুনানির জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়।
গ্রামীণ কল্যাণ প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে এক মাস সময় চাইলেও তা নাকচ করে কর কর্তৃপক্ষ। পরে পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ হলে প্রতিষ্ঠানটি হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের করে।
রিটের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং আয়কর দাবির নোটিশের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে কয়েক দফায় সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ কর কর্তৃপক্ষের দুটি আদেশ বাতিল করে রুল নিষ্পত্তি করেন। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ রুলটি মেরিটের ভিত্তিতে পুনরায় শুনানি ও নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুনের দাবি, ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণ ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর পরিশোধ করেছে। এরপরও ২০১৭ সালে একজন জয়েন্ট কমিশনার তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে পুনরায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর আরোপ করেন। সেই দাবির বৈধতাই রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।




