বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুন
১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফাইল ছবি
রাজধানীর বেইলি রোডের ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে। গ্রিন কোজি কটেজ নামে সাততলা ভবনটিতে ৪৬ জন নিহতের পর রমনা মডেল থানার মামলায় পলাতক আছেন আসামিরা। আজ রবিবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে তা আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা।
একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৯ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। অন্যদিকে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন জামিনে থাকা ৯ আসামি।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া আসামিরা হলেন— আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ এবং শাহ ফয়সাল নাবিদ।
জামিনে থাকা আসামিরা হলেন— আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ আল মতিন, ষষ্ঠ তলার ম্যানেজার নজরুল ইসলাম খান ও চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক এবং চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার।
এর আগে গত ২ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী। এতে অভিযুক্ত করা হয় ২২ আসামিকে। তবে দুজন মারা যাওয়ায় এবং দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের জন্য রয়েছে অব্যাহতির সুপারিশ।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অমান্য করেন সরকারি বিধিনিষেধ। তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বৈধ অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে হোটেল ব্যবসা পরিচালনাসহ হোটেলে ব্যবহার করেন গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন। যে কারণে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আগুন লাগলে নিহত হন ৪৬ ব্যক্তি। এর মধ্যে সম্পূর্ণ পুড়ে যান তিনজন।
এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় মামলা করেন উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। থানা পুলিশের হাত ঘুরে তদন্তভার পায় সিআইডি পুলিশ।

