ডা. ধীপ্রার মৃত্যু
স্বামীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- তদন্তে সিআইডি

ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার সঙ্গে স্বামী ডা. রহমত রশীদ।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী ডা. রহমত রশীদসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ভুক্তভোগীর আত্মীয় মো. মশিউর রহমান শাহ বাদী হয়ে মামলা করেন।
পরে বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু শাহিন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ধীপ্রার শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং স্যাটায়ার ওয়েবসাইট ‘ইয়ার্কি’-এর সম্পাদক শিমু নাসের। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে কয়েকজনকে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে সহপাঠী ডা. রহমত রশীদকে বিয়ে করেন ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা। তাদের সংসারে দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই ধীপ্রা পারিবারিকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। ফলে তিনি তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। সন্তান জন্মদানের পর তিনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।
আরও উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও আসামিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অবহেলা করেন। পাশাপাশি এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন ডা. নাফিসা।
অভিযোগে বলা হয়, গত দুই জুন থেকে টানা তিনদিন ডা. ধীপ্রাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাকে খাবার দেওয়া হয়নি এবং দুই বছর বয়সী সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। চার জুন খবর পেয়ে তার মা ধানমন্ডির বসতী গ্রীন আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে মেয়েকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে কক্ষ থেকে বের হয়ে চিকিৎসক ধীপ্রা তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মা, আমি ভাত খাব।’ এরপরই মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন ডা. ধীপ্রা।
অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং বিলম্বের পর বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় ডা. ধীপ্রার।
ধীপ্রার মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই একটি মৃত্যুসনদ (ডেথ সার্টিফিকেট) সংগ্রহ করা হয় এবং দ্রুত সম্পন্ন করা হয় দাফন— উল্লেখ করা হয় অভিযোগপত্রে।





