জাল টাকায় স্বর্ণ কিনতে গিয়ে ধরা ১৬ মামলার আসামি

সংগৃহীত ছবি
জাল টাকা তৈরিসহ ১৬ মামলার আসামি মো. রুবেল আহম্মেদ ফকির। ভাগ্নির বিয়ের কথা বলে ৫৭ লাখ জাল টাকার স্বর্ণ কিনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সফল হননি। পড়েছেন ধরা। এ ঘটনায় রাজধানীর বনানীতে করা মামলায় তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শ মো. জুম্মান খান তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, আসামি রুবেল আহম্মেদ ফকির একজন পেশাদার জালনোট চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর, পল্টন, গুলশান, উত্তর-পশ্চিম এবং নেত্রকোনা, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন থানায় জাল টাকা তৈরি, প্রতারণা, মানিলন্ডারিং ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে বনানী সুপার মার্কেটের লেভেল-২-এ অবস্থিত ‘মনিমালা জুয়েলার্সে’ ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন আসামি রুবেল ফকির ও তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল কাফি। তারা তাদের ভাগ্নির বিয়ের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার কথা বলে কর্মচারীদের বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা দেখাতে বলেন। একপর্যায়ে আসামিরা প্রায় ২০-২১ ভরি স্বর্ণালংকার পছন্দ করে বিল ও প্যাক করতে বলেন। স্বর্ণের পরিমাণ ও দাম অনেক বেশি হওয়ায় মনিমালা জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম ফোন করে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান।
মালিকের আসতে দেরি হওয়ায় আসামিদের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হলে আসামি রুবেল তার সঙ্গে থাকা ১৬ ইঞ্চি লম্বা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের নোটের বান্ডিল বের করে কাচের টেবিলের ওপর রাখেন। নোটগুলো পরীক্ষা করতেই কর্মচারীদের সন্দেহ হয় এবং তারা তা জাল টাকা বলে নিশ্চিত হন। বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই আসামি ট্রলি ব্যাগ ও টাকা ফেলে রেখে দোকান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।
এ সময় দোকানিদের ডাকচিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এগিয়ে এসে আসামি রুবেলকে ধরে ফেলেন। উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেন। তবে তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল কাফি কৌশলে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে বনানী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এ সময় পুলিশ এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৫৮টি বান্ডিলে সর্বমোট ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার জালনোট এবং একটি ট্রলি ব্যাগ জব্দ করেন।
এ ঘটনায় মনিমালা জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।





