ছিনতাইয়ের পর মুদি দোকানিকে হত্যা, কালুর যাবজ্জীবন

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর বংশালের সিদ্দিক বাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের পর মুদি দোকানি আব্দুল কুদ্দুসকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় মাসুম মিয়া ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইউনুস মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান।
রায় ঘোষণার সময় কারাগারে আটক দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতেই বিচারক রায় ঘোষণা করেন। পরে মাসুম মিয়ার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। আর খালাস পাওয়া ইউনুস মিয়াকে কারামুক্তির নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশে রিকশায় করে বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন মুদি দোকানি আব্দুল কুদ্দুস। বংশালের সিদ্দিক বাজার এলাকায় পৌঁছালে দুই ছিনতাইকারী তার রিকশার গতিরোধ করেন। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান তারা।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল কুদ্দুসকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওই দিন নিহত কুদ্দুসের চাচাতো ভাই মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ নভেম্বর দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক মো. শহীদুল ইসলাম। ২০১৭ সালের ৭ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ মাসুম মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ইউনুস মিয়াকে খালাস দেন।




